ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

রিফাত হত্যা: এখনও লাপাত্তা অন্যতম আসামি রিফাত-রিশান

বরগুনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৯
বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রিফাত ও রিশান ফরাজী

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পরপরই প্রশ্ন উঠেছে এই মামলার অন্যতম দুই আসামি রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী’র অবস্থান নিয়ে। পুলিশ বলছে, যেখানে নয়ন বন্ডের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়েছে সেখানে আরো ৫-৬ জন উপস্থিত ছিল, যারা একপর্যায়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তবে কি সেখান থেকেই রিফাত ও রিশান ফরাজী পালিয়ে গেছে, নাকি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে? এমন প্রশ্ন এখন বরগুনাবাসীর মাঝে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) ভোররাত সোয়া চারটার দিকে বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড।

এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ বিবরণ দিতে গিয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন,  পুলিশ জানিয়েছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত তিনটার দিকে পুরাকাটা এলাকায় যায় পুলিশ। টের পেয়ে রাত সোয়া চারটার দিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধাঘন্টা গুলি বিনিময়ের পর সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি, ২টি শটগানের কার্তুজের খোসা এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এসময় সেখানে নয়ন ছাড়াও আরও ৫ থেকে ৬ জন উপস্থিত ছিল বলে তাদের ধারণা।

এখন পর্যন্ত রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চারজন ও ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মামলার অন্যতম আসামি রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী। তবে পুলিশ বলছে, তারা জাল ছড়িয়ে রেখেছে। সেখানেই নয়ন বন্ড ধরা দিয়েছে। বাকি আসামিরাও নজরদারির মধ্যে আছে। খুব শিগগিরই তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে।

এ বিষয়ে বরগুনার পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, রিফাত ও রিশানের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে পুলিশই ভালো বলতে পারবে। জেলা পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা আছে।

জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, “সব আসামিই আমাদের নজরদারিতে আছে। শিগগিরই সবাইকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হব আমরা। নজরদারির মধ্যে থাকলেও ‘টেকনিক্যাল কারণে’ আমরা চাইলেই গ্রেপ্তার করতে পারি না। আমরা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করে তাদের ধরতে চাই যাতে পালানোর আর কোনো পথ না থাকে। তবে নিশ্চিত যে রিফাত হত্যা মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের বাধা দিয়েও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি। রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনো চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহতাবস্থায় রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিন বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর