ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধের নির্দেশ পুলিশ সদর দপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১

হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি–নির্যাতন বন্ধের বাস্তবায়ন দেখতে চায় পুলিশ সদর দপ্তর। এ লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-এক্সপ্যাট্রিয়েট সেল) তাপতুন নাসরিনের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সব ইউনিট প্রধান এবং জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতন বন্ধে গঠিত কমপ্লায়েন্ট কমিটির সভাপতি এআইজি তাপতুন নাসরিন। তিনি রোববার বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক বছর ধরে এই কমিটির কার্যক্রম চলছে। এটি নিয়মিত কাজেরই অংশ। অনেক আগে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন তাঁরা।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের মতামত’ শিরোনামে একটি জরিপ চালায়। এতে অংশ নেন রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন, পার্বত্য অঞ্চল ও বিশেষায়িত ইউনিটের কনস্টেবল থেকে পুলিশ পরিদর্শক পদবির সদস্যরা। ২০১৬ সালে কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভের এক গবেষণায় বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবলদের মধ্যে ১০ শতাংশ যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল।

একাধিক পুলিশ সুপার  জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের সেবা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে তদারক করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ব্রিফিং, রোল কল এবং কল্যাণ প্যারেডে সবাইকে সচেতন করা। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ মডিউলে অন্তর্ভুক্ত করা।

ওই পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, আগে পুলিশের নারী সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হলেও অভিযোগ তোলার সাহস পেতেন না। এখন একাধিক ঘটনায় সহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন পুলিশের নারী সদস্য। এ জন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে হাইকোর্টের দিকনির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে একটি মামলা করা হয়েছিল। ২০০৯ সালের ১৪ মে এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১১টি দিকনির্দেশনা দেন। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতন বন্ধে উপযুক্ত আইন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা মেনে চলতে বলেন আদালত।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666