ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ০৩:২০ অপরাহ্ন

হায়রে মানবিকতা!

রাশেদা রওনক খান
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০
রাশেদা রওনক খান। ফাইল ছবি

কয়েকদিন আগে কথা হচ্ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের সাথে, যার পারিবারিক অবস্থার কথা আমি জানি| ওর টিউশনির টাকায় পরিবারে ওর মা ও ছোট দুই বোনের খরচ এবং একইসাথে ওর পড়াশুনার খরচ চলে| আমি ওকে বললাম, বাড়ি চলে যাও, এভাবে বাসে বাসে করে ঘুরে করোনায় আক্রান্ত হবে| উত্তরে বলল, মাড্যাম আপনিতো সবই জানেন| আমি এই টিউশনিগুলো ছেড়ে দেয়া মানে না খেয়ে থাকার মতো| আমি চুপ করে রইলাম কিছুক্ষণ এরপর একটা বিকল্প পথের কথা জানিয়ে রাখলাম| তারপর এই ক’দিন আর কথা হয়নি|

গতকাল বাড়ি পৌঁছে ইনবক্সে জানালো, ও বাড়ি চলে এসেছে কারণ হলগুলো বন্ধ দিয়ে দিয়েছে| তাছাড়া টিউশনি থেকেও ছাত্রদের মায়েরা বলেছে, পরের মাসে ফোন দিতে, আপাতত থাকুক আসা লাগবেনা| আমি বললাম, বেতন দিয়েছে সবাই? বলল, একজন মার্চের পুরো বেতন দিয়েছে, বাকিরা বলেছে পরের মাসে এলে দেবে!

আমি অবাক হয়ে গেলাম, একজন জীবন সংগ্রামে পথ চলা সন্তানসম শিক্ষার্থীকে এই মাসের বেতনটা অগ্রিম দিতেও যাদের এতো লাগে (অথচ মাসের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ পার হয়ে গেছে!), তাদের সন্তানরা আসলে কতদূর যাবে?

আমার ছাত্র জানালো, এদের মাঝে একজনের বাড়ীতে দুইটা গাড়ী আছে! হায়রে মানবিকতা!

আচ্ছা, ওনাদের বাসায় কাজ করে যারা, তাদের ব্যাপারেও কি তারা একই কাজ করবেন? তাহলে এই যে ঘরে থাকার কথা বলছি আমরা, এই দিন আনে দিন খায় মানুষগুলো কিভাবে সামনের দিনগুলো পার করবে, যদি আমি আপনি তাদের পাশে না দাঁড়াই?

(বিষয়টি শেয়ার করছি ওর অনুমতি সাপেক্ষে)

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666