ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ায় সড়কেই সন্তান প্রসব

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০
গাইবান্ধায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করতে না পেরে সড়কের ওপরে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ভেতর সন্তান প্রসব করেছেন এক প্রসূতি মা

গাইবান্ধায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করতে না পেরে সড়কের ওপরে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ভেতর সন্তান প্রসব করেছেন এক প্রসূতি মা।

 শহরের মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

প্রসূতি মা মিষ্টি আকতার (২০) গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী।

ওই প্রসূতির স্বামী আব্দুর রশিদ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী মিষ্টি আকতারের প্রসববেদনা ওঠে। তখন মিষ্টি আকতারকে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যান তিনি। এসময় সেখানে দায়িত্বরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তৌহিদা বেগম কোন পরীক্ষা না করেই তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

তারপরও তিনি তার স্ত্রী ভর্তি করতে পরিদর্শক তৌহিদা বেগমকে একাধিকবার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি কোন কর্ণপাত করেননি। পরে নিরুপায় হয়ে অন্যত্র সেবা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ইজিবাইকযোগেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এসময় মিষ্টি আকতার ব্যথায় চিৎকার করতে থাকেন। পথে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে শহরের মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ওই ইজিবাইকের ভেতরেই সন্তানপ্রসব করেন তিনি।

গাইবান্ধা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদ আহমেদ বলেন, “সন্তানপ্রসবের পর প্রসূতি মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ঘেরাও করে।” খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, প্রসূতি মাকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পরে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করেন।

তিনি আরও জানান, “করোনাভাইরাস আতঙ্কে যদি কোন কর্মচারী রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ”

গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. সেকেন্দার আলী জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তৌহিদা বেগম মোবাইল ফোনে জানান, তিনি কাগজপত্র দেখে রোগীর স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব সম্ভব নয় বলে ফিরিয়ে দেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666