ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ০১:০৫ অপরাহ্ন

হাসপাতালের বিল দিতে না পারায় সন্তান বিক্রি!

ঢাকা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২০
শিশু সন্তানসহ দম্পতি। ছবি: ঈশ্বরদীনিউজ টুয়েন্টিফোর সংগৃহীত
হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন এক দম্পতি। পরে সন্তান বিক্রির ২৫ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন তারা। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে এলে ওই শিশু সন্তানটিকে তার বাবা-মার কাছে ফেরত এনে দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি এলাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) গর্ভবতী অবস্থায় কেয়া খাতুন নামে এক নারী কোনাবাড়ী এলাকায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই সিজারের মাধ্যমে তার একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তার স্বামী মো. শরীফসহ তারা এনায়েতপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিল। তারা দুজনেই স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কেয়া খাতুন ওই হাসপাতালে ১১ দিন ভর্তি ছিল। এতে হাসপাতালের বিল আসে ৪২ হাজার টাকা। এত টাকা পরিশোধ করার মত সামর্থ্য ছিল না মো. শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতির। একপর্যায়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ে সন্তান বিক্রি করতে সিদ্ধান্ত নেন। পরে শুক্রবার (১ মে) ২৫ হাজার টাকায় তাদের ১১ দিন বয়সের পুত্র সন্তান বিক্রি করে দেন। সন্তান বিক্রির সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে বাড়ি ফিরে যান ওই দম্পতি।

পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশের অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শক (আইজি-এসবি) শহিদুল ইসলামের নজরে আসে। পরে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি অবগত করেন। একপর্যায়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন ২৫ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে ওই শিশুটিকে ফেরত আনেন। পরে মো. শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতির ১১ দিন বয়সের পুত্র সন্তানকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন  জানান, ওই দম্পতি পোশাক কারখানার কর্মী। দারিদ্রতার অভাবে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে পারছিল না। পরে তাদের সন্তানটিকে বাধ্য হয়ে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন বাড়ি ফিরে যান। যাদের কাছে সন্তানটিকে বিক্রি করা হয়েছিল তাদের টাকা ফেরত দিয়ে ওই সন্তানকে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

খবর কৃতজ্ঞতা: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666