ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

সেতুর অভাবে চার জেলার মানুষের ভোগান্তি

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ-খানসামা উপজেলার জয়গঞ্জ এলাকায় আন্ত উপজেলা আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে ৪ জেলার মানুষ পারাপার হচ্ছে।

সেতু নির্মিত না হওয়ায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়ন, খানসামার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নসহ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বর্তমানে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা এবং বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম, শিবরামপুর, নিজপাড়া, গোলাপগঞ্জ ও পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা হয়ে বা বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলার দশমাইল হয়ে সৈয়দপুর শহর দিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে নীলফামারী যেতে হয়।

জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে সেতু নির্মিত হলে ঠাকুরগাঁও নীলফামারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে ৩০ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে পানি কম। দুই পাশে দীর্ঘ বালুচর। শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়া গ্রাম এলাকায় গড়ে ওঠা ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে বাঁশের তৈরি ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সাঁকো আছে।

সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষক, কর্মজীবী নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থীরা পারাপার হচ্ছেন। অনেক ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এতে সাধারণ মানুষকেও গুনতে হচ্ছে সাঁকো পারাপারের জন্য বাড়তি টাকা।

আলোকঝাড়ী গ্রামের বৃদ্ধা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখি আসুছু (আসছি) নদীটির ওপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো। এলাও ওরকমই আছে। বিয়াও হয়া শ্বশুরবাড়ি গেনু। ছাওয়ালের মা হনু, অ্যালাও ব্রীজ হলি না।

ঝাড়বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, আত্রাই নদীটিতে সেতু না হওয়ায় বর্ষাকালে খেয়া নৌকায় আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শত শত ছাত্র ছাত্রী চলাচল করে।

এ বিষয়ে ঝাড়বাড়ি –জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণে জনপ্রতিনিধিরা আশার ফুলঝুরি দিলেও স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও নির্মিত হয়নি সেতুটি। মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।

এর আগে সেতু বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে গত বছরের ১২ মে বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি চৌরাস্তা মোড়ে ঝাড়বাড়ি-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটি’র আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরো জানান, গত বছরের ১৫ মে তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, ২১ মে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ২৩ মে বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক এর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু সেতুটির বিষয়ে কেউই এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি আনতে পারেনি। সবাই আমাদের আশা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: