ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

ভাঙা রিকশা ও জীর্ণ শরীরে জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১
ভাঙা রিকশা নিয়ে রাস্তায় নূর মোহাম্মদ। সম্প্রতি নগরের সাহেব বাজার এলাকায়। ছবি: ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর

রিকশাটি এতই ভাঙাচোরা যে যাত্রীরা উঠতে চান না। আবার যাত্রী উঠলেও রিকশাটা টানতে পারেন না জীর্ণ শরীরের চালক। তাই তিনি রিকশায় যাত্রী তোলেন না। শক্তিতে কুলোয় না বলে কখনো রিকশাটি চালিয়ে যান, কখনো টেনে নিয়ে যান। এরপরও এই রিকশাই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। শুধু তিনি নন, তাঁর তিন সদস্যের পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন ভাঙা রিকশাটি।
বিজ্ঞাপন

রিকশাচালকের নাম নূর মোহাম্মদ (৭২)। থাকেন রাজশাহী নগরের মালদহ কলোনির ভাড়া বাসায়। পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ফুলজান বেগম (৫৫) ও ১৩ বছরের মেয়ে মুনিয়া। মাসে বাসাভাড়া ২ হাজার টাকা। প্রতিদিন লাগে এক কেজি চাল ও তরকারি। তাতে দেড় শ টাকার মতো খরচ।

কীভাবে জোগাড় হয় টাকা? নূর মোহাম্মদ বললেন, খালি রিকশাও টানা আধা কিলোমিটারের বেশি চালাতে পারেন না। যাত্রী ওঠালে তো রিকশা নড়াতেই পারেন না। তাই যাত্রী পরিবহন বাদ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন মালদহ কলোনি এলাকায় থাকেন। স্থানীয় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা চেনাজানা। তাঁরা কারখানায় তিনবেলা রান্না করে খান। প্রতিদিন সকালে বাজার করেন। সেগুলো রিকশায় করে কারখানায় পৌঁছে দিলে ভাড়া পান।

একটি কারখানার বাজার পৌঁছালে ভাড়া পান ২০ টাকা। করোনাকালে অনেক কারখানা বন্ধ। এখন মাত্র তিনটি কারখানায় বাজার পৌঁছে দেন। আরেকটি কাঁচামালের দোকানে মালামাল ওঠানো–নামানোর কাজ করেন। সেখান থেকে ৪০ টাকা পান। এই হলো সারা দিনের রোজগার। এর বাইরে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার স্থানীয় খানকা শরিফে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মাসে ১ হাজার ৫৬০ টাকা পান। দৈনিক হাতখরচ বাঁচান ৫–১০ টাকা। এভাবে ২ হাজার টাকা বানিয়ে বাড়িভাড়া দেন।

তবু কোনোমতে চলছিল নূর মোহাম্মদের জীবনযুদ্ধ। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সেই যুদ্ধে যেন হাল ছেড়ে দিতে হয়েছে তাঁকে। ঈদের পরে কঠোর বিধিনিষেধ জারির পর নূর মোহাম্মদকে কারখানার বাজার পরিবহন করতে দেখা যায়নি। কীভাবে দিন চলছে, খোঁজ নিতে সম্প্রতি এই প্রতিবেদক যান তাঁর বাসায়। স্থানীয় ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বাড়ির আঙিনায় জানালাবিহীন একটি ঘরে নূর মোহাম্মদকে পাওয়া গেল। পাশেই একটি ছাউনির নিচে তাঁর রিকশাটি রাখা।

রিকশা নিয়ে বাইরে যাননি কেন? নূর মোহাম্মদ বললেন, তিনটি কারখানা চালু ছিল। সেখানে বাজার পৌঁছে দিতেন। কঠোর বিধিনিষেধ শুরুর পর ওই তিনটি কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারিয়ে বাসাতেই বসে আছেন। সংসার চলছে কীভাবে? বললেন, কাউন্সিলর পৌনে পাঁচ কেজি চাল দিয়েছেন। তা-ই বসে বসে খাচ্ছেন। তরকারির কী হাল? এ প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘আমরা তরকারি একটু কমই খাই। আয় বুঝে ব্যয়, বুঝেন না?’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: