ঢাকা সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৭:৫২ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে ভাঙন আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
লালপুরে পদ্মা নদীর বাম তীর রক্ষা বাঁধ ধসে ভাঙন আতঙ্ক। ছবি: প্রতিবেদক

নাটোরের লালপুরের ঈশ্বরদী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর বাম তীর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লক ধসে গেছে। বাঁধ নির্মাণের সময় অনিয়ম ছাড়াও কিছু মানুষ তীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ও জিও ব্যাগে গর্ত করে বাঁশ, কাঠ, লোহার রড পুতে নানা কাজ করায় এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নতুন করে বাঁধ ধসের হুমকিতে পড়ছে এলাকাবাসী।

উপজেলার পালিদেহা, গৌরীপুর, নুরুল্লাপুর, লক্ষ্মীপুর হয়ে তিলকপুর পর্যন্ত ২২৬.০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সিসি ব্লক দিয়ে ৮.৫৮৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, এরই মধ্যে আকসেদ মোড়ে ২০ মিটার এবং নুরল্লাপুরে নতুন বাঁধ এলাকায় ১৫ মিটার এলাকা জুড়ে তীর রক্ষা ব্লক ধসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে নুরুল্লাপুরে। এই স্থানে প্রায় ৭৩ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হওয়ায় তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গৌরীপুর দক্ষিণপাড়া (আকছেদ মোড়) এলাকার মসলেম উদ্দিন খাঁ (৬২) জানান, বছর ছয়েক আগে পদ্মার তীরবর্তী ভাঙন রোধে ব্লক বসানো হয়। নদী ভাঙনে আকছেদ মোড়ে ৮০ মিটার এবং নুরল্লাপুরে নতুন বাঁধ এলাকায় ১৫০ মিটার এলাকা জুড়ে তীর রক্ষা ব্লক ধসে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মুদি দোকানদার শওকত আলী সৈয়দ (৩৫) বলেন, গৌরীপুর দক্ষিণপাড়া পদ্মা নদীর পাড়ে প্রায় আড়াই কিলো মিটারের বেড়িবাঁধ রয়েছে। প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ এখানে আসে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি যে কোন সময় বাড়ি ঘর বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয় জানান, নদীর তীর রক্ষা বাঁধ তৈরির সময় কিছুটা অনিয়ম ছিল। বর্ষাকালে নদীর প্রবল স্রোতে নুরুল্লাপুর, গৌরীপুর ও পালিদেহা গ্রামে পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কিছু স্থানে ব্লক ধসের সৃষ্টি হয়েছে।

ঈশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, প্রথমে পানির লেয়ার ওপরে ছিল। পরে লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় গভীরতা সৃষ্টি হলে বাঁধের সিসি ব্লক ধসে পড়ে। এদিকে মাছ মারার সময় খোঁচা (কাঠি) পোতার কারণে জিও ব্যাগ ফুটো হয়ে ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকে পড়ার কারণেও তীর ধসে যাচ্ছে।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার জানান, বাঁধের ক্ষতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেবেন।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান জানান, বাঁধের কিছু কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভয়াবহ কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666