ঢাকা সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মিন্নি, দাবি পুলিশ সুপারের

বরগুনা সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯
বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন

বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার সাথে নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারের আগে জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার(১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, মিন্নি শুরু থেকে যারা হত্যাকারী ছিলো তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। সেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার অংশ ছিলো। এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পূর্বে সেই এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পনার জন্য যা যা দরকার সবকিছুই তিনি করেছেন। এমনকী সে হত্যা পরিকল্পনার মিটিংও করেছেন হত্যাকারীদের সাথে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই হত্যাকাণ্ডে সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ মিন্নি আমাদের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আমাদের কাছেও প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে মিন্নি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। মিন্নি স্বীকার করেছে বলেই আমরা এই বিষয়গুলো আদালতের কাছে তুলে ধরে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করেছি আদালতও ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

রিফাতের বাবার সংবাদ সম্মেলনের পরই মিন্নিকে গ্রেফতার করা হলো এর সাথে পুলিশের কোনও যোগসাজোশ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, “যোগসূত্র থাকা বা না থাকার বিষয়টি আসলে আইনের কাছে গুরুত্ব নেই। প্রেসকনফারেন্স বা মানববন্ধন যেগুলো তদন্তের সাথে সংঘর্ষিক সেবিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ওপর কোন রাজনৈতিক চাপ নেই বা অন্য কোন মহলের চাপ নেই।

রিফাত হত্যা মামলায় এপর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের থামাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর