ঢাকা শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

রিফাত হত্যা: অস্ত্রের দায়িত্বে ছিল অলি, তানভীর ছিল অবস্থান পর্যবেক্ষক

বরগুনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৯
বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার পাঁচ আসামিকে সোমবার আদালতে তোলা হয়

বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অলি ও সন্দেহভাজন তানভীর। এছাড়া, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আরও তিন আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার (১ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে রিফাত হত্যা মামলার ৫ আসামিকে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। বিকেল ৫ টার দিকে অলি ও তানভীর আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দি গ্রহন শেষে বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং অন্য তিন আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে অলি আদালতকে জানায়, ঘটনার আগের দিন মেসেঞ্জারগ্রুপে হওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৬ তারিখ সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে কলেজ রোড এলাকায় রিফাত ফরাজীর কাছে পৌঁছে দেয় সে। অস্ত্রের ব্যাগটি একটি টিনের চালার ওপর রাখে রিফাত। সেখান থেকে অস্ত্র নিয়ে এসে নয়ন বন্ডকে দেয় রিফাত ফরাজী, রাকিবুল ইসলাম রিফাত ও টিকটক হদয়। এরপর একসঙ্গে হামলে পড়ে রিফাতের ওপর।

এদিকে, তানভীরও এ হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা আদালতে স্বীকার করেছে, রিফাতকে হত্যার আগে বরগুনা সরকারি কলেজ মাঠে বৈঠক করে নয়ন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তানভীরকে ২৬ তারিখ কলেজ রোড এলাকায় আসতে বলে রিশান। কারণ জানতে চাইলে রিফাতকে হত্যার কথা জানানো হয়।

হামলার দিন রিশান ফরাজীর নির্দেশনা অনুযায়ী ২৬ তারিখ নয়টার সময় কলেজ রোড এলাকায় হাজির হয়ে রিফাত শরীফকে মারার সময় কোনোভাবেই যেন পালাতে না পারে সে জন্য প্রতিটি অলি-গলিতে লোক রাখা হয়। সবার অবস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিলো তানভীরের ওপর।

আদালতের কাছে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে তানভীর। তারা হলো- সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড), রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, মোহামিনুল ইসলাম সিফাত, রাকিবুল ইসলাম রিফাত, রাব্বি আকন, রায়হানসহ নাম না জানা আরও অনেকে।

এরপর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্য তিন আসামি- নাজমুল হাসান, কামরুল ইসলাম সাইমুন ও মো. সাগরের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। এদের মধ্যে নাজমুল হাসান আরেক দফায় তিন দিনের রিমান্ডে ছিল। দ্বিতীয়ধাপে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবারও ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হুমায়ুন কবির  বলেন, আজ পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এদের মধ্যে অলি ও তানভীর আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরগুনার কলেজ রোড এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরীফ নামে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা বাবা দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত নয় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। এরমধ্যে ৪ জন এজাহারভুক্ত এবং ৫ জন সন্দেহভাজন।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, আমরা সব আসামিকে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সব আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর