ঢাকা শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন

গণতন্ত্রের জয় হোক চট্রগ্রামে

শাহাবুদ্দীন ইসলাম জনী
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১
ছবি: প্রতীকী

আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন । কাল বাদ পরশু এই চসিক নির্বাচন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ কাছে আসার সাথে সাথে বাড়ছে টান টান উত্তেজনা । তবে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল, বিএনপির রাজনীতিতে ফিরে আসার পায়তারা, বিদ্রোহীদের নানান ষড়যন্ত্র ও সাথে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অগ্নি পরীক্ষা দিয়ে এ নির্বাচন এখন নানান প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। কে জেতল কে হারল সেটা মুখ্য না এ নির্বাচনটা হয়ে গেছে এখন মর্যাদার লড়াই । গণতন্ত্র জয়ের লড়াই ।

নানানা কোন্দল ও অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বিশেষ টিম দিয়ে নিজে নির্বাচনগুলো নজরদারি করছেন । ইতিমধ্যে নেতা এসএম কামাল হোসেন, ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া ,সেলিম হোসেন সহ কেন্দ্রীয় নেতারা সবাই চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। বিএনপির দিক থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাবিবুন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা ও নানান কাজে তারা চট্রগ্রামেই । সব মিলিয়ে নির্বাচন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে গিয়েছে । আবার নির্বাচন কমিশনের জন্য এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ কারণ ইতিমধ্যে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কারণ সুশীল সমাজ ও বিএনপি বলছে যে, এই নির্বাচন কমিশন এর আওতায় কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় ‌। সেখান থেকে একটি অবাধ, দৃশ্যমান, সুষ্ঠু , ভালো নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‌। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রধান গতকাল চট্রগ্রামে ভিজিট করেছেন এবং বলেছেন ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হবে । কাজেই চট্টগ্রামে নির্বাচনের যেটা মূল লক্ষ্য সেটা হল নির্বাচনের ফলাফল এবং তার চেয়েও যেটা বড় বিষয় সেটা হলো একটি দৃশ্যমান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ।

কারণ এর আগে নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছে যে ,বিএনপি অভিযোগ তুলেছে তাদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে , নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না , তাদের ভোটাররা ভোট দিতে পারছেন না এজন্য তারা একের পর এক নির্বাচন বয়কট করছে । এই নির্বাচনে দ্বিতীয় প্রবণতা দেখা যাচ্ছে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য সংখ্যক । কয়েকটা পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের জটলার কারণে ভোটাররা ভোট দিয়েছে কিন্তু বাকি গুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম এবং এটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয় ‌। নির্বাচন কমিশন একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচনের দিন ছুটি না রাখাটা । এ অবস্থায় ভোটাররা এখন কিভাবে ভোট দেবে সেটাও এখন একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্ত কিছুর পরেও কোনো নির্বাচন হলেও সেখানে কেউ জিতবে কেউ হারবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু ভোট টা যেন অবাধ সুষ্ঠু , নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হয় এবং ভোট নিয়ে আম জনতার মধ্যে যে অনীহা অনাস্থা সেখান থেকে মানুষ যেন ফিরে আসে সে ক্ষেত্রে চসিক নির্বাচন একটি টেস্ট কেস হয়ে দাঁড়াতেই পারে ‌।

কারণ চট্টগ্রাম হলো ঢাকার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ঢাকার পর দেশে ব্যবসা বাণিজ্য তথা শিল্পে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন হয় চট্টগ্রাম থেকে । সুতরাং চট্টগ্রামকে বলা যেতে পারে দেশের জন্য ওয়ান ওফ দ্যা টপ লাইফ লাইন। কাজেই চট্টগ্রামে যদি সুষ্ঠ ভোট হয়, মানুষ যদি ভোট দেয় একটা যদি দৃশ্যমান সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয় তাহলে পরে এতদিনে যে অনাস্থা অনীহা জনসাধারণের মধ্যে ছিল তা অনেকটাই লাঘব হবে । এ ব্যাপারে রাজনীতি বিশ্লেষজ্ঞরা বলছে যে , সবাই আশা করছে আসন্ন চসিক নির্বাচন হবে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ । যেখানে সবচেয়ে বড় স্থান দেওয়া হবে জনগণকে, জনগণের অধিকারকে, নীতি নৈতিকতা ও ভোট গ্রহণের মৌলিকতাকে। তারা আরো বলছেন যে, কম সংখ্যক ভোটার দিয়ে ভোটগ্রহণ সংস্কৃতি বাংলাদেশের নয় বরং বাংলাদেশের মানুষ ভোটটাকে উৎসব মুখর হিসেবে দেখতে চায় ।

তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কোন্দল জর্জরিত আসন্ন চসিক নির্বাচনে চট্টগ্রামে কে জিতল কে হারল সেটা বিষয় না নয় বরং আমজনতা , বিজ্ঞ জনমহল , রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সবার প্রত্যাশা একটাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার আগের ভোটমূখর উৎসব রঙিন পরিচিতি ফিরে পাক ‌এবং শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতাহীন ভোটে লাল সবুজের বাংলাদেশ পাক আবারো গণতন্ত্রের জয়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর