ঢাকা সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

লুঙ্গি মাহফেল

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৯
লুঙ্গি মাহফেলে অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

 

বাঙালির চিরায়ত পোশাক লুঙ্গি। তবে আধুনিক সময়ে এসে লুঙ্গির ব্যবহার শুধু ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আরামদায়ক পোশাক হিসেবে বাড়িতে অনেকেই লুঙ্গি পরলেও বাড়ির বাইরে এটি হয়ে পড়েছে নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মানুষের পোশাক। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অফিস-আদালত কোনোখানেই লুঙ্গির প্রচলন নেই। নিজেদের পোশাক ও সংস্কৃৃতি নিয়ে হীনমন্যতা দূর করে বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক লুঙ্গির গ্রহণযোগ্যতা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ক্যাম্পাসে তারা আয়োজন করেন ‘লুঙ্গি মাহফেল ২০১৯’।

বুধবার (১০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী এই মাহফেল। মাহফেল উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলে প্রচারণা চালান আয়োজকরা। এতে ব্যাপক সাড়া পান তারা। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এদিন লুঙ্গি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাহফেলে অংশ নেন। লুঙ্গি পরেই তারা গিয়েছেন ক্লাসে, ঘুরে বেড়িয়েছেন ক্যাম্পাসে, দিয়েছেন আড্ডা। এছাড়াও ‘আরামদায়ক পোশাক লুঙ্গি’, ‘ক্লাসে লুঙ্গি’, ‘জাতীয় পোশাক লুঙ্গি’- এমন নানা স্লোগান দিয়ে তারা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করেন।

সকাল থেকে বিভিন্ন বিভাগের ছাত্ররা লুঙ্গি পরে ক্লাসে আসেন। ক্লাস শেষ করে জড়ো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে। লুঙ্গি বাঙালির ঐতিহ্য। আর তা সবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এ আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।

এ বিষয়ে ইভেন্টের অন্যতম আয়োজক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র নেহাল মুহাম্মাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার জায়গা। কিন্তু আজকাল সবক্ষেত্রে এর প্রয়োগ হয় না। অন্যের প্রতি সম্মান, সহনশীলতা এসব এখন অনেক কমে গেছে। লুঙ্গি আমাদের দেশীয় পোশাক হলেও অনেকে এটাকে ‘ক্ষ্যাত’ বলে আখ্যা দেন। আমরা মূলত সেই বদ্ধমূল ধারণা থেকেই বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, পোশাক যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে লুঙ্গি পরে ক্লাস করার কথা ভাবাও যায়না। অনেকেই বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু কিছু জায়গায় টি-শার্ট পরে গেলেও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। আমরা চাই এই ধারার অবসান ঘটুক।

ইভেন্টে কেমন সাড়া পেয়েছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেসবুক ইভেন্টে অনেকেই অংশ নেওয়ার কথা জানালেও তাদের সবাই শেষ পর্যন্ত আসেননি। তবে আজকে প্রথমে শ’ দেড়েক শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গে এসেছেন। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসেছেন। মেয়েদের জন্য কোনও ধরনের ড্রেসকোড রাখা হয়নি। আমাদের বান্ধবী এবং নারী সহপাঠীরাও অংশ নিয়েছেন।

শিক্ষকরা বিষয়টিকে কীভাবে নিয়েছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, লুঙ্গি পরে আজ প্রথম ক্লাস করতে গেলে শিক্ষকদের কেউ কেউ প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলেন। পরে কারণ জিজ্ঞেস করলে আমরা বুঝিয়ে বলায় তারা মেনে নিয়েছেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: