ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

‘লিভিং ঈগল’ সাইফুল আজমের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০
সাইফুল আজমের জানাজা সোমবার বাদ জোহর বিমান বাহিনীর হ্যাঙ্গারে অনুষ্ঠিত হয়।

পাবনা-৩ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম সুজা (৭৯) গতকাল রোববার সকাল ১০টায় বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় বনানীর বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। স্ত্রী ও তিন ছেলে রয়েছে তাঁর।

পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সুজা নির্বাচনপরবর্তী সময়ে পাবনায় তার নিজ গ্রামের বাড়িতে খুব কম আসতেন। ব্যবসায়িক কাজে পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আজ সোমবার বনানী কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস সামাদ খান মন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাবিবুর রহমান তোতাসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েছেন।

১৯৪১ সালে পাবনা জেলার খগড়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাইফুল আজম। উচ্চমাধ্যমিক স্তর পাশ করে ১৯৫৬ সালে উচ্চতর শিক্ষার্থে পশ্চিম পাকিস্তানে যান। ১৯৬০ সালে জিডি পাইলট ব্রাঞ্চের একজন পাইলট হন তিনি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ডিরেক্টর অব ফ্লাইট সেফটি ও ডিরেক্টর অব অপারেশনস হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি ঢাকা বিমান ঘাঁটির কমান্ড লাভ করেন এবং ১৯৭৭ সালে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পান।

সাইফুল আজম একমাত্র সামরিক পাইলট, যিনি যুদ্ধে চারটি বিমান বাহিনীর (বাংলাদেশ, জর্ডান, ইরাক ও পাকিস্তান) জন্য কাজ করেছেন। সেই সঙ্গে দুটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনন্য কৃতিত্ব তার রয়েছে।

সাইফুল আজম তার বর্ণাঢ্য জীবনে নিজেই কিংবদন্তির ইতিহাস রচনা করেছিলেন। পৃথিবীর ২০ জন ‘লিভিং ঈগলের’ মধ্যে তিনি ছিলেন উল্লেখযোগ্য একজন।

তিনি ১৯৯১-৯৬ সালে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া) আসন থেকে পঞ্চম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666