ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

পূজামণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীরা পার পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে সবাইকে এক হয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের সরকার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

সম্প্রতি কুমিল্লার পূজামণ্ডপে সৃষ্ট গুজবকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ ভাঙচুর এবং অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং সার্বক্ষণিকই আমরা যোগাযোগ রাখছিলাম এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং যেখানে যেখানে যারাই এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবে, সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের খুঁজে বের করা হবে। এটা আমরা অতীতেও করেছি এবং সেটা আমরা করতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ শাস্তি তাঁদের দিতে হবে। মানে এমন শাস্তি, যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায়, সেটাই আমরা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কুমিল্লার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে, তার ব্যাপক তদন্ত হচ্ছে। অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে, তাদের আমরা খুঁজে বের করবই এবং আমরা তা করতে পারব। কারণ, এখন প্রযুক্তির যুগ। এটা বের করা যাবে এবং সে যে–ই হোক না কেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। আর আমরা তা করেছি এবং করব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, সে সময় এই যাত্রাটাকে ব্যাহত করার এবং সঙ্গে সঙ্গে দেশের ভেতরে একটা সমস্যা সৃষ্টি করার এ ধরনের কিছু দুষ্ট লোক দেশে রয়ে গেছে। যারা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না। রাজনীতি নেই, কোনো আদর্শ নেই—আসলে তারাই এ ধরনের কাজ করে। এটা তাদের একধরনের দুর্বলতা। কিন্তু এর বিরুদ্ধে যদি সবাই সচেতন থাকে, তাহলে এগুলো যেমন প্রতিরোধ করা যায়, তেমনি এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহানগর পূজা কমিটির সভাপতির আশঙ্কা ব্যক্ত করার প্রসঙ্গ টেনে সবাইকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই এ ব্যাপারে আমরা জানি এবং যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ঢাকার অধ্যক্ষ স্বামী পুণ্যাত্মানন্দ মহারাজ।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জির সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।

জাতির পিতার রেখে যাওয়া অসাম্প্রদায়িক আদর্শ নিয়েই তাঁর সরকার পথ চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।

বাংলাদেশে সব ধর্ম–বর্ণের মানুষ সবাই একসঙ্গে বসবাস করবে এবং যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার। এটা বাংলাদেশে সব সময় ছিল এবং আছে। প্রতিটি উৎসবের সময় সবাই একসঙ্গে শামিল হয়ে আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু মাঝেমধ্যে কিছু দুষ্ট চক্র কিছু ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের ভেতরের এই চেতনাটাকে নষ্ট করতে চায়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666