ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মের জ্যোতিতে মানুষ পেয়েছিল মুক্তির পথ’

আমিনুল ইসলাম শান্ত
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

‘‘একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে/ লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে/ ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে-/ ‘কখন আসবে কবি?’ ‘কখন আসবে কবি?’’

কবি নির্মলেন্দু গুণের এই পঙ্ক্তিমালার মতোই জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল জনকের জন্মশতবার্ষিকীর। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ১০ জানুয়ারি থেকে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন আজ ১৭ মার্চ থেকে আগামী বছর ১৭ মার্চ পর্যন্ত উদ্যাপিত হবে মুজিব বর্ষ হিসেবে। আজ থেকে শুরু হলো সেই দিন। কেননা এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কোটি বাঙালির প্রিয় নেতার শততম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বরেণ্য ব্যক্তিরা। রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে এই আনন্দদিনে প্রিয় নেতার অনুপস্থিতির বেদনার সুর স্পষ্ট হয়েছে তাদের উচ্চারিত শব্দমালায়।

১৯৭১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে হাসান ইমামকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় শিল্পীদের প্রতিবাদী সংগঠন বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ। যারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পাকিস্তান বেতার ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান বর্জন করেন। একাত্তরের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এখনও রয়েছে সেই আগের জায়গায়। হাসান ইমাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে আমরা খুব মিস করি। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আরো উন্নত হতো। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাকত না। সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটত না।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আজকে যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, সেটা তাঁর কারণে। দেশটা বর্তমান অবস্থায় আসতে পেরেছে বঙ্গবন্ধুর জন্য। একজন বাঙালিও যখন বিশ্বের বুকে বেঁচে থাকবেন, তখনো বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারিত হবে।’

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন করা নানা কারণে খুব প্রয়োজন ছিল। শতাব্দীর একটা বড় সময় ধরে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর জীবনটা একদিক থেকে খুব যন্ত্রণাময়। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনে যা হয় আরকি! যেমন আত্যাচার, বারবার জেলে যাওয়া, মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া। এসব তিনি সহ্য করেছেন। ঘাতক ভেবেছিল তাঁকে হত্যার মাধ্যমে তাঁর জীবন ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু তা ঘটেনি। আততায়ীদের এটা শিক্ষা হওয়া দরকার— এমন মানুষ শত শত বছর বাঁচে মানুষের হৃদয়ে। হত্যা করলেই তাঁদের জীবন শেষ হয় না। এসব নানা কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন খুবই অর্থপূর্ণ ঘটনা।’

একাত্তর সালে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করায় অভিযান চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও কিছু মুক্তিযোদ্ধা জীবন বাজি রেখে ঢাকায় গেরিলা সংগঠন গড়ে তোলেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সফল সংগঠন ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অধীন ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ বা বিচ্ছু বাহিনী। এই বাহিনীর অন্যতম সদস্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের কথা উঠতেই মুঠোফোনের অপর প্রান্তে নীরবতা নেমে আসে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘আপনার (বঙ্গবন্ধুর) জন্মের জ্যোতিতে বাংলার মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল’।

এই বিচ্ছু বাহিনীর আরেক সদস্য রাইসুল ইসলাম আসাদ। তিনি বলেন, ‘নতুন করে কিছু বলার নেই। বছরজুড়েই তো বলা হচ্ছে, বলছি। আমি শুধু মনে মনে ভাবছি, তিনি যদি একশ বছর বেঁচে থাকতেন— তবে কেমন হতো, কী হতো? কী হতে পারতো এই দেশের, এই জনগোষ্ঠীর, পৃথিবীর?’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: