ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

শমীর মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯
সাংবাদিকদের সঙ্গে অভিনেত্রী ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার

 

সাংবাদিকদের সঙ্গে অভিনেত্রী ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সারের বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তোলপাড়। এতে প্রায় সবাই তার সমালোচনা করছেন। কেউ তার ব্যক্তিগত জীবন বা সংসার জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। আবার কেউ তিনি তার বাবা শহিদুল্লাহ কায়সারের সম্মান রাখতে পারেননি বলে আফসোস করছেন।  এছাড়া কেউ প্রসঙ্গ টেনে তার মা পান্না কায়সারের সমালোচনাও করছেন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত লেখার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্যও করছেন অনেকে। দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক শামসুদ্দিন আহমেদ তার ফেইসবুক একাউন্টে এই বিষয়ে একটি লেখা লিখেছেন। ৮ ঘণ্টায় এতে মন্তব্য (কমেন্ট) করেছেন ২১ জন। নান্দিক সম্পাদক ও আইনজীবী ইসমাত শিল্পীর লেখার পরিপ্রেক্ষিতে এতে ৬ ঘণ্টায় মন্তব্য (কমেন্ট) করেছেন ৩৯ জন। লেখাটি শেয়ার করেছেন ২ জন। সাংবাদিক সাঈফ শিশিরের এ সংক্রান্ত একটি লেখার পরিপ্রেক্ষিতে এতে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কমেন্ট করেছেন ২১ জন।

শামসুদ্দীন আহমেদ তার Shamsuddin Ahmed নামের ফেইসবুক একাউন্টে লিখেছেন, “বুধবার থেকে ফেসবুকে শমী কায়সারের নানান কিসিমের ছবি দেখছি। আগুনঝরা প্রতিবাদ দেখছি। চালাকি ও কৌশলী মন্তব্য মিশ্রিত স্ট্যাটাসেও ভরে গেছে ফেসবুকের ওয়াল। প্রায় সবগুলো স্ট্যাটাসই পড়ার ও বোঝার চেষ্টা করেছি, এখনও করছি। শমী তার ঔদ্ধত্য আচরণ ও মন্তব্যের মাধ্যমে প্রধানত নিজের বাবা শহীদ সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারকেই অপমান করেছেন। বিনা বাক্য ব্যয়ে তার উচিত ক্ষমা চাওয়া। সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানাই।

এবার একটু নিজেদের সমালোচনা করি। শমীর মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরা অনেকেও কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করে ফেলছি। কিছু মন্তব্য রীতিমতো অশ্লীলও বটে।

এবার অন্যদিকে চোখ ফেলি। হালে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল ‘আপনাকে আমি একজন চরিত্রহীন বলে মনে করতে চাই’ এবং ‘খামোশ’ মন্তব্যদ্বয়। তখন টকশো কাঁপানো ও জ্যেষ্ঠ কয়েকজন সাংবাদিক যেভাবে ঈর্ষণীয় বিপ্লবী ভূমিকা রেখেছিলেন, এবার দু’একজন ছাড়া অন্যরা নিরব। কয়েকজন লোক দেখানো প্রতিবাদ করেছেন। যেন ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে হয়েছে। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও ড. কামাল হোসেনকে গ্রেফতারের দাবিতে জনমত গঠনে তারা প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই বিপ্লবী কিংবা কমরেডদের এখন দেখি লিখেছেন, ‘নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই, এই মন্তব্য দুঃখজনক, শমীর কাছ থেকে এই আচরণ কাম্য নয়, শমী আপনি না শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে, শমীকে বর্জন করুন, ক্ষমা চান, প্রতিবাদ হওয়া উচিত’ এরকম কোমলপানীয় মার্কা কৌশলী মন্তব্য। ক্ষেত্র বিশেষে এমন দ্বিচারিতার কারণ কী, আমার মাথায় ধরে না।’

এতে মন্তব্যে (কমেন্ট) Adv Rubel Howlader নামের একটি একাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, আপনার লেখনীর সাথে সহমত পোষন করছি। যদিও শমী ঔদ্ধত্য আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন কিন্তু ভাঙ্গা কাঁচ জোড়া লাগানো অসম্ভব। সাংবাদিকদের মনে উক্ত মন্তব্য ক্ষত হয়ে থাকবে।

আর সাংবাদিক Lutfor Rahman Badal মন্তব্যে লিখেছেন, নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য প্রয়াত বাবার পরিচয় দেন সংবাদিক বলে, স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে শমী কায়সারের কাছে সাংবাদিক সমাজ হয়ে যায় ইতরের বাচ্চা। গতকাল প্রেসক্লাবে সেটাই প্রমাণ করলেন।

ইসমাত শিল্পী তার Istmat Shilpi নামের ফেইসবুক একাউন্টে লেখা হয়েছে, শমী কায়সার সেলিব্রিটি নয় রাজনীতিবিদ। আপনারা সেলিব্রিটি বলেছেন !

সেলিব্রিটি হলে ক্ষমতার এমন দাপট দেখাতো না। কিছু শালীনতা থাকতো। ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। কে কী ভাবলো, কার কষ্ট লাগলো, ক্ষতি হলো কোনোকিছু তোয়াক্কা করে না।

আমার ২০১৬ সালে মে মাসেই মনে হয়েছে। পাবলিক লাইব্রেরির এক অনুষ্ঠানে। চলন বলন আলাদা ধাঁচের; ভালো লাগেনি একটুও। মানে মেলাতে পারিনি সেলিব্রিটি শমী কায়সার হিসেবে। 

সাংবাদিকদের নিয়ে যা করেছে তা ক্ষমতার জোরে। এটা কোন ভুল না- নিদারুণ অপমান ও অসভ্যতা !

একসময় শমীর অভিনয় দেখে কেঁদে ফেলতাম। অনেকদিন মনে থাকতো হৃদয়স্পর্সী সেসব নাটক। এখন মনে হচ্ছে, …. etc.  etc.  etc।’


Shahriar Arif নামের ফেইসবুক একাউন্টে এক সাংবাদিক লিখেছেন, শমী কায়সারকে জাতীয় প্রেস ক্লাব ডিআরইউ ও ক্র্যাবে অবাঞ্চিত ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।

আর Saif Shishir নামের আরেক একাউন্টে লেখা হয়েছে, আমি হলে সামনে এগিয়ে গিয়ে শমীকে বলতাম- ইচ্ছেমতো নিজ হাতে আমার গোটা শরীর তল্লাশি করেন। 

আয়কর আইনজীবী ইসমাত শিল্পীর লেখার পরিপ্রেক্ষিতে Linda Amin নামের একটি একাউন্ট থেকে মন্তব্য করে লেখা হয়েছে, ক্ষমতার সাথে জোড়াতালি আছে তাই এতো দেমাগ! কিসের সেলিব্রিটি? তাহলে আচরণ এতো খারাপ হতোনা। বেয়াদব বেটি। ভদ্রতা জানেনা।

Rahman Prithu নামের একাউন্ট থেকে মন্তব্যে লেখা হয়েছে, শমি কায়সার মেচিউরড না, তার কথাবার্তা, অভিব্যক্তিতে বুঝা যায়। শমি কায়সার, পান্না কায়সার আওয়ামী লীগের নামে সুবিধা খোঁজেন। দুঃখজনক, এদের এমন যোগ্যতা নেই নৌকায় একটা ভোট যোগাড় করে দেবেন।… বাবার যোগ্যতায় সন্তান বিচার্য না। এর প্রতিউত্তরে (রিপ্লাই) শিল্পী লিখেছেন, শমী ও বাবার নামের বরাতে গুচ্ছ গুচ্ছ নেতাদের চাচা বলে বলে জায়গা নেয়।

মন্তব্যে Raahman Chowdhury লিখেছেন, রাজনী‌তি‌বিদ না তারকা, না‌কি অন্যকিছু সেটা বড় প্রশ্ন নয়। মানু‌ষের শ্রেণি চ‌রিত্রটাই আসল। সেটাই সম‌য়ের স‌ঙ্গে স‌ঙ্গে ঘটনার স্রো‌তের ভিতর দি‌য়ে বের হ‌য়ে আসে। সক‌লেই, আমরা ঘটনার স্রো‌তে নিজ নিজ শ্রেণি চ‌রিত্র প্রকাশ ক‌রে ফে‌লি। বহুজ‌নেরটা প্রকা‌শিত হ‌য়ে‌ছে, ধী‌রে ধী‌রে আরো হ‌বে। যা‌দের কা‌ছে শ্রেণিচ‌রি‌ত্রের ধারণাটা নেই, তারা এসব দে‌খে বিস্মিত হ‌বে। ইতিহা‌সের ‌বিচা‌রে আবেগের জায়গা নেই। লেখাটি সুন্দর হয়েছে বলে প্রতুত্তরে (রিপ্লাই) ধন্যবাদ জানান শিল্পী। এর পরের মন্তব্যে শুধু দুটি শব্দ লেখা হয়েছে। যাতে লেখা আছে, ‘বিশুদ্ধ বেয়াদব’।

Farhan Mohammad নামের আরেকটি একাউন্ট থেকে মন্তব্যে লেখা হয়েছে, তিনি এবং তার স্বামী ভারপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ ওনাদের কেউ রাজনীতিবিদ হিসেবে গোনেনা তারা দুজনে দুজনের কাছে বিরাট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এক সময় বিএনপির কার্যালয়েও শমী কায়সারের ছোটাছুটি দেখেছিলাম।

পরের মন্তব্যে লেখা হয়েছে, ঘিয়ের গন্ধে ছালা আর কদ্দিন বেচা যায়! 

পরের মন্তব্যে সাংবাদিক Maksudul Bari Tipu লিখেছেন, সে তো শুধুই অভিনয়। সে প্রমাণ করলো অভিনয় আর বাস্তব জীবন এক নয়।

Wahid Zaman নামের একটি একাউন্ট থেকে মন্তব্যে লেখা হয়েছে, অপমানিত হবে তার অতীত।

এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে অভিনেত্রী এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সারের ‘নিকৃষ্ট দুর্ব্যবহারের’ নিন্দা জানিয়েছে বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন শহীদ সাংবাদিকের মেয়ে হয়ে পিতার পেশার উত্তরসূরীদের ‘চোর’ বলে সম্বোধন করে শমী কায়সার প্রকারান্তরে তার পিতাকেই নিকৃষ্টভাবে অসম্মান করেছেন। শুধু তাই নয়, একজন সেলিব্রেটি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘মোবাইল ফোন হারানোর’ সূত্র ধরে যে আচরণ করেছেন তা সেলিব্রেটিদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার মতো একজন অভিনেত্রী ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়।

বিবৃতিতে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা এ ধরণের নিকৃষ্টতম দুর্বব্যহারের জন্য সাংবাদিক সমাজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুবা যত বড় সেলিব্রেটিই হোন না কেন তার সংবাদ বর্জন করা হবে। প্রয়োজন হলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে সাংবাদিক সমাজ নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করে জাতিকে বিস্তারিত জানাতে বাধ্য হবে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে প্রায় অর্ধশত ফটো ও ভিডিও ক্যামেরা এবং শতাধিক মানুষের সামনে চুরি হয় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই- ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সারের দুটি স্মার্টফোন। এ সময় তিনি সাংবাদিকরা মোবাইল চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন এবং তার নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে সংবাদকর্মীদের দেহ তল্লাশি করান।

এ সময় কেউ কেউ বের হতে চাইলে তাদের ‘চোর’ বলে ওঠেন শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মীরা। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সংবাদকর্মীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানস্থলে।

পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছেন। ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখার পর সাংবাদিকদের প্রতি ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন শমী কায়সার।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: