ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

ঢাকায় মেট্রোরেল চলবে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ মে, ২০১৯
ঢাকায় চলছে মেট্রোরেলের কাজ (ফাইল ছবি)

রাজধানীতে বহুল প্রত্যাশিত মেট্রোরেল ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে চালু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের অগ্রগতি বিষয়ক সভা শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি মেট্রো রুটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী বলেন, ‘চলমান মেট্রোরেল রুট ৬- এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত এবং ২০২০ সালের মধ্যে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের পূর্ত কাজ শেষ হবে। আমরা আশা করছি, ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে মেট্রো রুট।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মেট্রো রুট-১ এর কাজও আমরা হাতে নিয়েছি। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রুটে থাকছে দুটি অংশ। প্রথম অংশ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত। দ্বিতীয় অংশ পূর্বাচল রুট যা নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত। বিমানবন্দর রুটে ২০ কিলোমিটার বাংলাদেশের প্রথম পাতাল রেল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে।’

কাদের বলেন, ‘মেট্রো রুট ১ এর সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। মূল নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ প্রান্তে। এ রুটে নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০২৬ সালের মধ্যে। এ রুটের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে একটি অংশের বা প্রায় চার হাজার কোটি টাকা লোন এগ্রিমেন্ট জাপানে সফররত প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মহানগর পূর্ব থেকে পশ্চিমে সংযোগ বাড়াতে মেট্রোরেল রুট ৫ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি হবে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এ রুটে প্রায় ১৪ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল। রুট ৫ এর নর্দান অংশের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। রুট ৫ এর সাউদার্ন অংশ হবে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত; যার প্রায় ১৩ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল।’

নির্মাণ কাজ চলাকালে সাময়িক দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভালো কাজের জন্য সাময়িক দুর্ভোগ জনগণকে মেনে নিতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তির জন্য সাময়িক দুর্ভোগ জনগণ মেনে নেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য বরাদ্দ ৩০ টাকার ইফতার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ইফতার একটি ধর্মীয় বিষয়। ইফতারে বেশিরভাগ মানুষ খুব বেশি টাকার খাবারসামগ্রী ব্যবহার করে না। এটা নিয়েও পলিটিক্স হবে, তা প্রত্যাশা করা যায় না। জেল কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। জেলে থাকলে জেল কোড তো মেনে নিতেই হবে। এতে যদি মনে করেন, খালেদা জিয়া কষ্ট পাচ্ছেন, আমরা অতিরিক্ত ব্যবস্থা করবো।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সুবিধা-অসুবিধা হবে। কর্তৃপক্ষ জেল কোড অনুযায়ী ইফতার দেবে। ইফতার তো আর নতুন আসেনি। জেল যখন শুরু হয়েছে তখন থেকেই জেলে ইফতার শুরু হয়েছে। কাজেই আমার মনে হয়, এটা কোনো বিষয়ই না যে, এটা নিয়ে বিতর্ক উঠতে পারে।’

কাদের বলেন, ‘আমি বলি, তারপরও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব, এই ৩০ টাকার ইফতারে যদি খালেদা জিয়া অসন্তুষ্ট হন, বা এটা তার চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম হয়, তাহলে আমরা কর্তৃপক্ষকে বলতে পারি, তারা যেন অতিরিক্ত ব্যবস্থা করেন। অহেতুক এটা নিয়ে রাজনীতি করবেন না।’

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি ইফতার করেন কত টাকার? অনেকেই পানি খেয়ে ইফতার করেন। এতে মনে করেন যদি বেগম জিয়া কষ্ট পাচ্ছেন, আমরা অতিরিক্ত ব্যবস্থা করবো।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: