ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা: খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়নি, পরবর্তী শুনানি ১৬ মে

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় আদালতে হাজির করা হয়নি। ১৬ মে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২–এর বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরান এই আদেশ দেন। পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার শুনানি চলে আসছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মোশাররফ হোসেন কাজল।

মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে আদালতে আনা হয়নি। অন্যদিকে মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী আমিনুল হক মারা গেছেন। আদালতকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আদালত মামলার শুনানির নতুন দিন ঠিক করেছেন।

আদালতের পেশকার আশিক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আসামি আমিনুল হক মারা যাওয়ার ব্যাপারে মৃত্যুর সনদপত্র জমা দিতে বলেছেন আদালত।

গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়। আর মামলার আসামি আমিনুল হক গত ২১ এপ্রিল মারা যান।

মামলার আসামিরা হলেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কে এম মোশাররফ হোসেন, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, আসামি সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান এবং বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসামি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁদের মধ্যে পলাতক আছেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বাকিরা জামিনে আছেন।

দুর্নীতির পৃথক মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হচ্ছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, মামলার ১৬ আসামির মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান, বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার ও এম শামসুল ইসলাম মারা যাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ নয়জন এখন মামলার আসামি।

২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট। ২০১৬ সালের ২৫ মে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় দুদক মামলাটি করে। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক আবুল কাসেম ফকির এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে পেট্রোবাংলার প্রস্তাব অনুযায়ী পুনরায় দরপত্রের সিদ্ধান্ত না দিয়ে পিপিআর ২০০৩ লঙ্ঘন করে শ্যান্ডং লুদির অযৌক্তিক দরবৃদ্ধির প্রস্তাবসহ অন্যান্য শর্তাদি নিয়ে শ্যান্ডং লুদির সঙ্গে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করা হয়। সময়ের স্বল্পতার অজুহাতে সর্বোচ্চ দরদাতা সিএমসিকে কাজ দিয়ে সরকারের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৩ টাকা ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়, যা দণ্ডবিধি এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অপরাধ।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: