ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

করোনার নির্মম শিকার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০
হ্যান্ড মাইকে সবার প্রতি আহ্বান জানান জনসমাগম না করার জন্য পুলিশের সদস্যরা।

 জামাল উদ্দিন: জঙ্গি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বছরগুলোতে পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সাল থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে দায়িত্বরত অবস্থায় জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন অনেক পুলিশ সদস্য। সড়ক দুর্ঘটনা ও অসুস্থতার কারণেও মারা গেছেন অনেকে। কিন্তু গত কয়েক মাসে করোনায় যত পুলিশ সদস্য জীবন দিয়েছেন, তিন মাসেরও কম সময়ে অতীতে এত পুলিশ সদস্য কখনও মারা যাননি। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার চেয়েও করোনাভাইরাসের নির্মম শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর ২৮ এপ্রিল প্রথম ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য কনস্টেবল জসিম উদ্দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর শুক্রবার (২৪ জুলাই) পর্যন্ত তিন মাসেরও কম সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পুলিশের ৬০ জন সদস্য।

অন্যদিকে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, অসুস্থতা ও দুর্ঘটনায় ২০১৩ সালে ১২ জন এসআই, আট জন এএসআই, দুই জন নায়েক ও ৫৯ জন কনস্টেবলসহ ১০৯ জন মারা যান। ২০১৪ সালে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি), একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), তিন জন পরিদর্শক, ১৪ জন এসআই, একজন সার্জেন্ট, ১৫ জন এএসআই, একজন নায়েক এবং ৬৬ জন কনস্টেবলসহ ১০২ জন মারা যান। ২০১৫ সালে ছয় জন পরিদর্শক, ১৪ জন এসআই, দুই জন সার্জেন্ট, ১৯ জন এএসআই, ছয় জন নায়েক এবং ৭৯ জন কনস্টেবলসহ ১২৬ জন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন।

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার বছর ২০১৬ সালে একজন এএসপি, তিন জন পরিদর্শক, ১৯ জন এসআই, একজন সার্জেন্ট, ১৮ জন এএসআই, ছয় জন নায়েক এবং ৮০ জন কনস্টেবলসহ ১২৮ জন মারা যান। ২০১৭ সালে একজন এএসপি, ছয় জন পরিদর্শক, ১২ জন এসআই, দুই জন সার্জেন্ট, ১৯ জন এএসআই, দুই জন নায়েক, ৮৮ জন কনস্টেবলসহ ১৩০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বরত অবস্থায় মারা যান।

২০১৮ সালে একজন এসপি, একজন এএসপি, সাত জন পরিদর্শক, ২২ জন এসআই, ৪ জন সার্জেন্ট, ২২ জন এএসআই, দুই জন নায়েক এবং ৯৯ জন কনস্টেবলসহ ১৫৮ জন পুলিশ সদস্য মারা যান। আর ২০১৯ সালে একজন অতিরিক্ত আইজিপি জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত অবস্থায় মারা যান। এছাড়া একজন এসপি, একজন অ্যাডিশনাল এসপি, একজন এএসপি, ১২ জন পরিদর্শক, ১৬ জন এসআই, দুই জন সার্জেন্ট, ৩৫ জন এএসআই, ছয় জন নায়েক, ১০৪ জন কনস্টেবলসহ ১৭৯ জন মারা যান।

এ বছর (২০২০) করোনা সংক্রমণ শুরুর পর চিকিৎসকদের পাশাপাশি সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা করোনায় আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ান। চিকিৎসায় সহায়তা ছাড়াও লাশ দাফন ও সৎকারে পুলিশ সামনে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে।

২০২০ সালের শুরুতে অন্য কোনও কারণে পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুর কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু ২৮ এপ্রিলের পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) একজন এসপি ও একজন এএসপিসহ ৬০ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি মো. সোহেল রানা বলেন, ‘দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু পীড়াদায়ক। ২০১৩ সালের পর জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা থেকে মানুষকে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। অনেকেই হতাহত হয়েছেন। ওই সময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের এক রকম প্রস্তুতি ছিল। পুলিশ নানা কৌশল ও সক্ষমতা দিয়ে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। যা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে দেশে করোনা সংক্রমণ থেকে মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। আর মানুষের সেবা দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, জীবন দিচ্ছেন।’

এই পরিস্থিতিও পুলিশ সফলভাবে মোকাবিলা করে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666