ঢাকা রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০:০১ অপরাহ্ন

দেশে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৯

বাংলাদেশের ১৩টি জেলার ৭১টি উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব রয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়া রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।

শতকরা ৯১ ভাগ ম্যালেরিয়া রোগী এসব এলাকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সচেতনতার মাধ্যমে এ রোগের প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব।

তাই এ বিষয়ে এসব এলাকাসহ সারা দেশের মানুষকে মশা থেকে সাবধানতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকার মধ্যে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সর্বাধিক। এরপর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলাতেও যথেষ্ট প্রকোপ রয়েছে। সবশেষে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম জেলাতে তুলনামূলক কম হলেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরে ডা. শহীদ মিলন ভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত গণমাধ্যমে অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আগামী ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদফতর, ব্র্যাক ও অন্য সহযোগী সংস্থা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। এ বছরে দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হল- ‘আমিই করব ম্যালেরিয়া নির্মূল’। প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে উল্লেখ করে সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে ও সবাইকে সচেতন করতে হবে। আমাদের দেশে ম্যালেরিয়ার বিভিন্ন প্রকারভেদের মধ্যে ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ার সংখ্যাই বেশি। ভারতে ও মিয়ানমারে বেশি ভাইভেক্স ম্যালেরিয়া। তবে দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়াও দেশের অন্যান্য জায়গায় বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয় এলাকা থেকে এই ভাইভেক্স বা মারাত্মক ম্যালেরিয়া বাংলাদেশে ছড়াচ্ছে।

তাই আমরা শিগগিরই ভারতের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসব- যাতে এই এলাকাগুলোতে ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রম ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়। নইলে আমাদের লক্ষ্য অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

বক্তারা বলেন, দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অবকাঠামো নেই। দেশের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়। আর নির্মূল করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। যে এলাকাগুলোতে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি সে এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অবকাঠামো নেই। আবার ১৩টি জেলায় একসঙ্গে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব হবে জানিয়ে বক্তারা বলেন, আগে ৬৪টি জেলায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি ছিল। এখন ৫১টি জেলায় কমে মাত্র ১৩টি জেলায় রয়েছে। আমাদের চলমান কার্যক্রম অনুসারে নির্মূলের ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট আশাবাদী। এ পর্যন্ত ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় ১০.৬৯ মিলিয়ন দীর্ঘস্থায়ী কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে ১০ হাজার ৫২৩ জন ম্যালেরিয়া রোগী ছিল যেখানে ৭ জন মৃত্যুবরণ করে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বক্তারা আরও বলেন, ২০১৪ সালে ভারি বর্ষণের অভাবে হঠাৎ ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। অর্থাৎ এ রোগের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিস্থিতিই বেশি দায়ী।

অধিদফতরের ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রমের এপিডেমিওলজিস্ট ডা. মো. মশিউর রহমান বিটুর সঞ্চালনায় ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এমএ ফয়েজ, ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজ ও ওয়াশ কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) সাবেক কর্মকর্তা ডা. এএম বাঙালী, ডব্লিউএইচও’র রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মেডিকেল অফিসার ডা. মায়া সেপাল, জাতীয় কনসালট্যান্ট অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ, অধিদফতরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। সভায় জানানো হয়, আগামী ২৫ এপ্রিল দেশের প্রতিটি জেলায় এই দিবসটি পালিত হবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666