ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিকের জেল: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন চায় সরকার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২০
আরিফুল ইসলাম।

ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া কারাদণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

শনিবার (১৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং জেলা ও মাঠপ্রশাসন অনুবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত  এ গাফ্‌ফার খান ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কেএম তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে ইতিমধ্যে কুড়িগ্রামে একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার গিয়েছেন।

এই ঘটনাটি সরকার ও প্রশাসনকে বিব্রত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আরিফের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না।”

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, সাধারণভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত এভাবে পরিচালনা করা যায় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়, মধ্যরাতে কারও বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করার এখতিয়ার ভ্রাম্যমাণ আদালতের আছে কিনা। এর জবাবে তিনি বলেন, “আমি ওই ঘটনার বিষয়ে এখনও অবগত নই। তবে সেখানে আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।”

অন্যদিকে, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, তিনি ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, মধ্যরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অবৈধ। ডিসি আইনের উর্ধ্বে নন। যদি ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম করা হয়, তাহলে ডিসির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, আইন অনুযায়ী মধ্যরাতে কারো দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার এখতিয়ার নেই। মোবাইল কোর্টকে অবশ্যই ঘটনাস্থলে বিচার করতে হবে। এক জায়গা থেকে ধরে নিয়ে অন্য জায়গায় দণ্ড দেওয়া যাবে না। যে সময়ে এবং যে প্রক্রিয়ায় দণ্ড দেওয়া হয়েছে তা বেআইন, অবৈধ এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কোনো বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এমন অভিযান চালানো যায় কিনা-জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী জানান, টাস্কফোর্স কারো দরজা ভেঙ্গে ঢুকতে পারে না। তাদেরকে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে আরিফুলের বাড়ি থেকে তাকে ডিসি অফিসের দুই-তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বেশ কয়েকজন আনসার সদস্য তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। মাদকদ্রব্যবিরোধী অভিযানে আটকের পর তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়। এ সময় বাসায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আরিফুলকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী মোস্তারিমা নিতু।

কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে নিজ নামে পুকুর খননের অভিযোগ ওঠায় সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন আরিফুল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নিয়োগ অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন করছিলেন তিনি।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: