ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:০৬ অপরাহ্ন

দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০
৫৪.৭ কিলোমিটারের ৪ লেন বিশিষ্ট এ এক্সপ্রেসওয়ের মধ্যে দিয়ে যাত্রীদের ঢাকা ও ফরিদপুরে যেতে খুবই অল্প সময় লাগবে, ফলে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর যোগাযোগ আরও সহজতর হবে

দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়েটির ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা অংশ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েটি ৫৪ কিলোমিটারের ৪ লেন বিশিষ্ট। নির্মীয়মাণ পদ্মাসেতুর কাজ সমাপ্ত হলে এক্সপ্রেসওয়েটির যাত্রীরা সম্পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।”

এরমধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুর যেতে খুবই কম সময় লাগবে, ফলে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর যোগাযোগ সহজতর হবে। এটি এশিয়ান হাইওয়ে ১ (এএইচ১) এর একটি অংশ। যার মধ্যে দিয়ে ঢাকা থেকে বেনাপোল হয়ে কলকাতায় যাওয়াও আরও সহজ হবে।

দুইলেন বিশিষ্ট একমাত্র সড়কে ঢাকা থেকে ফরিদপুর যেতে কমপক্ষে ৭/৮ ঘণ্টা ব্যয় হয়। ফলে ভয়াবহ জ্যামের মধ্যে পড়তে হয় যাত্রীদের। বিশেষ করে,  অল্পসংখ্যক ফেরি থাকায় যাত্রাকাল কোনও কারণ ছাড়াই দীর্ঘায়িত হয়। এক্সপ্রেসওয়েটির ফলে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৬ সালে ৩ মে একনেক’র (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ) নির্বাহী কমিটির এক্সপ্রেসওয়ের এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।  সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ১১ হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্ক অর্গানাইজেশন (এসডাব্লিউ) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়।

প্রাথমিকভাবে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল। সেসময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ২৫২ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পটির বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা করা হয়। তবে কাজ অর্ধেক শেষ হতে না হতেই বরাদ্দের টাকা শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে এক্সপ্রেসওয়েটি দুই অংশে ভাগ বিভক্ত করা হয়। যারমধ্যে যাত্রাবাড়ি থেকে মাওয়া অংশে ৩৪.৭ কিলোমিটার ও পাচ্চর থেকে ভাঙ্গা অংশে ২০ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে খরচ হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা।

এক্সপ্রেসওয়েটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এতে খুব দ্রুতগতিসম্পন্ন যানবাহন চলাচল করতে যারে।

চারলেন বিশিষ্ট ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েটিতে চালকরা প্রবেশ ও বের হতে চারটি পথ পাবে অন্যদিকে পাচ্চর-মাওয়াতে প্রবেশ ও বাহির হতে তিনটি প্রবেশপথ পাবে। এছাড়া কমগতিসম্পন্ন যানবাহনগুলো এক্সপ্রেসওয়ের অন্যপাশে থাকা দুইলেন বিশিষ্ট সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

এক্সপ্রেসওয়েটিতে পাঁচ মিটার প্রশস্ত সেন্ট্রাল রিজার্ভেশন, ধলেশ্বরী ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর অবস্থিত তিনটি সেতু, দু’টি সার্ভিস রোড, বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের ২৮ কালভার্ট ও ছোট সেতু রয়েছে। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়েটিতে ৬টি ফ্লাইওভার ও ৪টি  রেললাইন রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জুরাইনে এক্সপ্রেসওয়েটির একটি রেলওয়ে চলে গেছে, যেটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত।

এক্সপ্রেসওয়েটি ধোলাইপার মোড় থেকে শুরু হচ্ছে, যেখানে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারটি শেষ হয়েছে, বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ সেতু (পোস্তোগোলা সেতু) হয়ে মাওয়ার দিকে চলে গেছে।

ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা চারলেন এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের গতি বাড়াতে প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতুকে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। খুবই অপ্রশস্ত সেতুটি চারলেনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় নতুন করে সেতুটি সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: