ঢাকা সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

ভাসানচর প্রকল্পে রোহিঙ্গা স্থানান্তরে অনিশ্চয়তা

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯

অনাগ্রহ এবং আপত্তির মুখে থমকে গেছে ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর কার্যক্রম। মিয়ানমার থেকে পলিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের কেউই আপাতত কক্সবাজার ছাড়বেন না বলে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিয়েছেন রোহিঙ্গারা। এ কারণে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বৃহৎ প্রকল্প চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

রোহিঙ্গা স্থানান্তরে সংশ্লিষ্ট সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথইস্ট উইং সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, বিষয়টিতে তারা হতাশ নন। অনিশ্চয়তা কাটাতে নতুন উদ্যোগ নেবে সরকার।

কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে নোয়াখালীর ভাসানচর সম্পূর্ণ বসবাসের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হলেও সেখানে যেতে অনাগ্রহ ও আপত্তি তুলেছে রোহিঙ্গারা। গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নিতে কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।

রোহিঙ্গা স্থানান্তরে সংশ্লিষ্ট সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথইস্ট উইংয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা দৈনিক জাগরণকে জানান, সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করেই ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। হঠাৎ করে রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে কারো কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

স্থানান্তর থমকে যাওয়া প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা জানান, ১৫ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গা স্থানান্তর শুরু করা গেলে হয়তো ১ মাস সময় লাগতো। অর্থাৎ বৃষ্টির মৌসুম আসার আগে ১৫ মে’ র মধ্যে ১ লাখ রোহিঙ্গা স্থানান্তর করা যেত। কিন্তু যেহেতু তা করা যায়নি, এখন বিষয়টি নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে হবে। রোহিঙ্গাদেরর মাইন্ড সেট চেইঞ্জ করতে হবে, তারপর উদ্যোগ নিতে হবে। তাও আর এই বৃষ্টির মৌসুমে সম্ভব নয় বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

রোহিঙ্গা স্থানান্তরের অনিশ্চয়তা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন দৈনিক জাগরণকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা হতাশ নই। শিগগিরই সরকার, জাতিসংঘের মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক এবং কয়েকটি বিদেশি এনজিও কর্মকর্তাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় একটি বৈঠক আহ্বান করার পরিকল্পনা আমরা করছি। আলোচনার মাধ্যমে অনিশ্চয়তা কাটানো সম্ভব হবে। রোহিঙ্গা স্থানান্তরে সরকারের পরিকল্পনার অনেকগুলো দিক মানবাধিকার কর্মী ও শরণার্থীদের কাছে পরিষ্কার নয় বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোন কোন মহল ‘ভাসানচর’ নিয়ে কিছু গুজব রটাচ্ছে। এসব গুজব রোহিঙ্গাদের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ভাসানচরে পুলিশ ক্যাম্প, নৌ-বাহিনীর একটি দপ্তর ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সব সদস্যদের জন্য আবাসন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ১ হাজার ৪৪০টি ব্যারাক হাউস, ১২০টি গুচ্ছ গ্রাম, ১২০টি সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, পুকুর খনন, স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আয়ের পথ সৃষ্টি করতে ছোট দোকান, বিক্রয় কেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি মহিষ, হাঁস-মুরগি পালন, কুটিরশিল্প, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছচাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে দু’টি হেলিপ্যাড।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666