ঢাকা রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

ফণী পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত নৌবাহিনীর ৩২ জাহাজ ও নৌ কন্টিনজেন্ট

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৯
ফণী পরবর্তী জরুরি ত্রাণ তৎপরতার প্রস্তুতি হিসেবে নৌবাহিনীর জাহাজে ত্রাণ তোলা হচ্ছে। ছবি: আইএসপিআর

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত-পরবর্তী জরুরি উদ্ধারকাজ, ত্রাণ তৎপরতা ও চিকিৎসা সহায়তাসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে নৌবাহিনীর ৩২টি জাহাজ ও নৌ কন্টিনজেন্ট। শুক্রবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা নৌ অঞ্চলে নৌবাহিনীর ৩২টি জাহাজ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় দ্রুততম সময়ে জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুরসহ উপকূলীয় দুর্গত এলাকাগুলোতে মোতায়েনের জন্য নৌ কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ মেঘনা বরিশালে, বানৌজা তিস্তা ঝালকাঠিতে, এলসিটি-১০৪ বরগুনায় এবং এলসিভিপি-০১১ পটুয়াখালীতে নিয়োজিত থাকবে। এসব জাহাজ জরুরি খাদ্যসামগ্রী হিসেবে দুই হাজার পরিবারের তিন দিনের শুকনা খাবার বহন করছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য শুকনা খাবার হিসেবে রাখা হয়েছে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি তেল, ২ কেজি লবণ, ২ কেজি চিড়া, ২ কেজি মুড়ি, ১ কেজি গুড় ও প্যাকেট বিস্কুট। এ ছাড়া মোমবাতি, পলিথিন ব্যাগ, ম্যাচ বক্স, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, স্যালাইন ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রয়েছে।

দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও খাওয়ার স্যালাইন বিতরণের কাজে নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া নৌ কন্টিনজেন্টগুলোর মতো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সড়কপথে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য নিয়োজিত থাকবে তারা।

বিমানবাহিনীর সব হেলিকপ্টার-পরিবহন বিমান প্রস্তুত

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সব হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আইএসপিআর আজ রাতে এ কথা জানিয়েছে।

বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে জানিয়ে আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এখানে আজ বিকেলে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।আইএসপিআর জানায়, বিমানবাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু, কুর্মিটোলায় পরিবহন বিমান সি-১৩০ এবং এএন-৩২ ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত জনগণের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বিতরণের জন্য তিনটি এএন-৩২ বিমান প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, ত্রাণ বিতরণ ও মেডিকেল ইভাকুয়েশনের জন্য ২টি এমআই-১৭ এবং ২টি এডব্লিউ-১৩৯ হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেডিকেল ইভাকুয়েশনের জন্য ৩টি এল-৪১০ বিমানও প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ৩টি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যান্য হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ব্যবহারের জন্য।আইএসপিআর জানিয়েছে, ৩টি এএন-৩২ বিমানের মাধ্যমে প্যারাসুটের সাহায্যে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় বিতরণের জন্য ১ হাজার ৫০০ প্যাকেট ত্রাণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।এদিকে বিমানবাহিনী ঘাঁটি মতিউর রহমান বরিশাল বিমান বন্দরে প্রয়োজনীয় জনবল ও বিমান মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর