ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

পাবনায় চেয়ারম্যানের গাড়িবহরে আগ্নেয়াস্ত্র: চালক কারাগারে, পলাতক ৪

পাবনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১
সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামানের গাড়িবহরের মাইক্রোবাস থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর

পাবনার সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিনের গাড়িবহর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আটক মাইক্রোবাসচালক হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে পুলিশ।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে হাবিবুল্লাহকে পাবনার আদালতে নিলে বিচারক করাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার চার আসামি পলাতক।

হাবিবুল্লাহ সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের কাঁচিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

শুক্রবার রাতে সুজানগর উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের ভাটিকয়া বাজারে উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িবহরের মাইক্রোবাস থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অস্ত্র ও মাইক্রোবাস আমিনপুর থানায় নেয়া হয়।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান, শুক্রবার বিকেলে রানীনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বর্ধিত সভায় নিজ সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে রানীনগর ইউনিয়নের ভাটিকয়া বাজারে যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বহরের একটি কালো মাইক্রোবাস তল্লাশি করে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়।

ওসি জানান, আগ্নেয়াস্ত্রগুলো যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওয়ান শুটারগানটি লাইসেন্সকৃত এবং শটগানটি অবৈধ। লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি সুজানগর পৌরসভার কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জনির বাবা তোফাজ্জল হোসেনের নামে ইস্যু করা বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। তবে মালিক ছাড়া অন্য কেউ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র এভাবে নিয়ে যেতে পারেন না।

ওসি রওশন আলী আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় হাবিবুল্লাহসহ পাঁচজনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে মামলা করা হয়েছে। হাবিবুল্লাহকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। অপর চার আসামি পলাতক।

তাদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে নাম-পরিচয় জানাতে রাজি হননি ওসি।

মাইক্রোবাসের মালিক উজ্জ্বল হোসেন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনের নামে শুক্রবার চারটি গাড়ি ভাড়া দেয়া হয়েছিল। গাড়িতে যদি তারা অস্ত্র রাখে, সে ক্ষেত্রে চালকের কী করার থাকে।

আটক চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যারা অস্ত্র গাড়িতে রেখেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব জানান, উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ১১ নভেম্বর। অধিকাংশ ইউনিয়নে শাহিনুজ্জামান পছন্দের লোক মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রানীনগর ইউনিয়নের পূর্বনির্ধারিত সভায়ও তিনি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে উপস্থিত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে পারেননি। বহরের প্রতিটি গাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ছিল।’

এ বিষয়ে শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘বর্ধিত সভায় অনেক নেতা-কর্মী ও গাড়ি ছিল। কে কী অবস্থায় ছিলেন, সেটা আমার জানার কথা নয়। তা ছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষের লোকজন হিংসাত্মকভাবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও মনগড়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘অস্ত্রের মালিক আমি নই, অস্ত্র নেয়ার বিষয়টিও আমি জানি না।। বিদ্রোহী প্রার্থীকে মদদ দেয়ার বিষয়টিও সত্য নয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেবে।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666