ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন

পাবনার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে সাবেক সাংসদের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১
সাংবাদিক সৈকত আফরোজ আসাদ। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রকাশের জেরে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক। সৈকত আফরোজ সময় টেলিভিশন, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাবনা জেলা প্রতিনিধি। এ ছাড়া তিনি পাবনা মেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম নামের অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকার কল্যাণপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মিজানুর রহমান মুঠোফোনে সৈকত আফরোজকে বিষয়টি অবগত করেন।

মিজানুর রহমান সৈকত আফরোজকে জানিয়েছেন, গত ৯ জুন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাবনা-২ আসনের সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক এ মামলা করেন।

খন্দকার আজিজুল হক বর্তমানে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। মামলার বিষয়টি জানার পর জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাবে জরুরি সভাও আহ্বান করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ মার্চ সাংসদের পৈতৃক বাড়ি জেলার বেড়া উপজেলার নাটিয়াবাড়ি গ্রামে আমিনপুর থানা-পুলিশ একটি অস্ত্র তৈরি কারখানার সন্ধান পায়। এ সময় অস্ত্র তৈরির অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে সৈকত আফরোজ সম্পাদিত পাবনা মেইল টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘সাবেক এমপির ভাতিজার বাড়িতে কারখানা, আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ২’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে প্রতিবেদন তিনি (সৈকত আফরোজ) তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করেন।

এজাহারে সাংসদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিক সৈকত আফরোজ তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই সংবাদটি প্রকাশ করেছেন। এ কারণে তিনি মামলাটি করেছেন।

মামলা প্রসঙ্গে সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক আজ শুক্রবার  বলেন, গ্রেপ্তার যুবকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। যুবককে গ্রেপ্তারের প্রতিবেদনও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও তাঁকে (সাংসদ) জড়িয়ে কিছু বলা হয়নি। শুধু সৈকত আফরোজ সম্পাদিত অনলাইন পোর্টালেই তাঁকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি এর প্রতিবাদপত্র দিয়েছিলেন, সেটিও ছাপা হয়নি। তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

এজাহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে সৈকত আফরোজ বলেন, কোনো সংবাদই মনগড়া তথ্যে হয় না। ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল আসামি পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজেকে সাংসদের ভাতিজা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

সৈকত আফরোজ বলেন, প্রতিবেদনে সাংসদের বক্তব্যও রয়েছে। সাংসদের ভাতিজা দাবি করা যুবকের বক্তব্যও সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত আছে। এখন তিনি আইনগতভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।

পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হস্তক্ষেপ। অবিলম্বে এই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি তাঁর। তা না হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে লাগাতার কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: