ঢাকা সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

চালু হয়নি সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা, পাবনা হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১
সংকটাপন্ন অবস্থায় আসা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেই আইসিইউর ব্যবস্থা। চার দিন ধরে জ্বরে ভুগতে থাকা নূর এ আলমের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। ছবি: ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর

করোনার সংক্রমণ বাড়ায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। তবে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপোর্টের কাজ এখনও শেষ হয়নি। অক্সিজেন সংকটে বেড়েছে ভোগান্তি ও রোগীর মৃত্যুর শঙ্কা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন ঠিকাদারের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্য কাজ শেষ না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে রোগীর চাপ বাড়ায় সাধারণ অক্সিজেন সিলিন্ডারেরও সংকট দেখা দিয়েছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য দরপত্র হয়। চলতি জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। ঠিকাদার কোম্পানি স্প্রেকটার প্রতিনিধিদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার তাগাদা দিলেও তারা ধীরগতিতে কাজ করছেন। এমনকি, সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সও তাদের দ্রুত কাজ শেষ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে কাজ শেষ হওয়ার আগে আপদকালীন ব্যবহারের জন্য বড় সিলিন্ডারের মাধ্যমে পাইপলাইনে উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বললেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে ২১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে, যা বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট হলেও করোনা চিকিৎসায় অপ্রতুল। জরুরি ভিত্তিতে ৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন। পাশাপাশি, করোনা চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নার্সদের জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা আসছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে অধিক রোগীর চাপ সামলাতে জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলী বলেন, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার খোঁজ নেন সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। বৃহস্পতিবার তিনি হাসপাালে জরুরি পরিদর্শনে আসেন। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে জানানো হয়। দীর্ঘ সময় তিনি পরিস্থিতি শুনে অক্সিজেন প্লান্টের ঠিকাদারের গাফিলতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অক্সিজেন সিলিন্ডার বাড়ানোরও তাগিদ দেন তিনি।

পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই অন্তত পাঁচবার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করতে তাগাদা দিয়েছি। তারা নানা অজুহাতে সময় নিচ্ছে। শেষবার তাদের উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেনের ব্যবস্থার কাজ দ্রুত শেষ করতে বলেছি। নয়তো এরপর থেকে, অক্সিজেনের অভাবে প্রতিটি মৃত্যুর দায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। প্রয়োজনে পাবনাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় করণীয় নির্ধারণে হাসপাতালের চিকিৎসক ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে জরুরি বৈঠক করেন সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। বৈঠকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার কাজে ধীরগতি এবং বিকল্প উপায়ে বড় সিলিন্ডারে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা করতে ঠিকাদারের অসহযোগিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

জরুরি বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. সালেহ মোহাম্মদ, ডা. আকসাদ আল মাসুর আনন, ডা. জাহিদ হাসান রুমি, হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট রুহুল আমিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক হিরোক হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান রকি প্রমুখ।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666