ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণের অভিযোগ: বিএনপি ২৭, শিবির ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

সারা দেশে গত দুই সপ্তাহে ধর্ষণের অভিযোগে আটক হয়েছেন ১৩৭ জন। এদের বিরুদ্ধে নতুন-পুরনো মিলিয়ে ৯৩টি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ৮৩ জনেরই কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এদের মধ্যে ২৭ জন সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২১ জন জামাত এবং শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ৬ জন আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের শীর্ষস্থানীয় তিনটি জাতীয় দৈনিকে গত দুই সপ্তাহের খবর বিশ্লেষণ করে এই  তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ঐ তিন পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে দেয়া যায়, এই  ১৫ দিনে ধর্ষণের নতুন ঘটনার অভিযোগ এসেছে ২১টি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনাটি। এছাড়াও যশোর, ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লায় ধর্ষণের অভিযোগে ২১টি মামলায় মোট অভিযুক্ত ৪৬ জন। এদের মধ্যে ৪১ জনকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেপ্তার করেছে। আটক ৪১ জনের মধ্যে বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কর্মী ১৩ জন। এই ১৩ জনের বিরুদ্ধেই অতীতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ২ জন পরিবহণ শ্রমিক। যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও আছে। ৪১ জনের মধ্যে দুই জন মাদ্রাসা শিক্ষক সহ ৭ জন জামাতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ৪ জন ছাত্রলীগ কর্মী। বাকিদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায় নি।

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন শুরু হবার পর, পুরনো ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে ৭২টি। এর মধ্যে নতুন মামলাই হয়েছে ৩৯টি। নতুন মামলা গুলো এক থেকে চার বছরের পুরনো ঘটনার ভিত্তিতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ধর্ষকরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে এতোদিন মামলা করতে পারিনি। নোয়াখালীর বেগম গঞ্জে ধর্ষণের ঘটনা এক বছরের পুরনো। আর নারী নির্যাতনের ঘটনাটি দেড় মাস আগের। এসব পুরনো ঘটনায় নতুন মামলায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই পুরনো মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৯ জন বিএনপি কর্মী। ৫ জন শিবির কর্মী। বাকিদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই মামলা গুলোর অভিযোগ দূর্বল। তাছাড়া এতোদিন পর ধর্ষণের মামলা প্রমাণ করাও কষ্ট সাধ্য। ধর্ষণ মামলার অন্যতম বিষয় হলো, মেডিকেল রিপোর্ট। সেটা এখন পাওয়া সম্ভব নয়।

৩৩টি মামলা আছে সেগুলো পুরনো মামলা। নানা কারণে এই মামলা গুলোর তদন্ত হয়নি। আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এখন ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনে পুরনো এই মামলাতেই ৪৪ জনকে নতুন করে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666