ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

দীর্ঘমেয়াদী বন্যার শংকায় হাওরবাসী

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯
হাওরের পানি বেড়ে সুনামগঞ্জের সদর উপজেলায় পানিবন্দি মানুষ

সুরমা নদীর পানি বাড়ায় দীর্ঘমেয়াদী বন্যার আশংকা করছেন সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিনে কিছুটা কমলেও সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুর থেকে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সুরমার পানি।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনে বাড়িঘর থেকে পানি কিছুটা কমলেও সোমবার দুপুর থেকে আবার নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে পানির প্রবাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রবিবার ভোর ৬টার দিকে সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুরমার পানি।

তবে রবিবার বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সোমবার ভোরে কিছুটা কমে ৭৩ সেন্টিমিটারে নেমে এসেছিলো জলপ্রবাহ। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুরমার পানি।

এদিকে, নদীর পানি ধীর গতিতে বাড়লেও হাওর এলাকার পানি বাড়ছে হু হু করে। সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, গতকাল পানি কমছিলো কিন্তু আজ পানি আবারও বাড়ছে। ফলে বাড়িঘরের ভেতরকার পানির পরিমাণ আরও কিছুটা বেড়েছে। মেঘ হলে পানি বাড়ে, না হলে কমে।

স্থানীয়রা আরও জানান, পানি বাড়ার কারণে হাওরের তীরবর্তী গ্রামগুলোর মানুষ এখন গবাদিপশু নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। অধিকাংশ কৃষকের খড়ের গাদার নিচে বন্যার পানি ঢুকেছে। আরও বৃষ্টিপাত হলে গো-খাদ্যেও সংকট দেখা দেবে। পানি কমার গতি ধীর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী বন্যার আশংকা করছেন তারা।

এছাড়া, খারাপ আবহওয়ায় কাজে যেতে না পারায় অলস দিন পার করতে হচ্ছে হাওরবাসীকে।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় গ্রামের সদানন্দ দাস বলেন, খারাপ আবহওয়ার কারণে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। বাধ্য হয়েই শুয়ে-বসে দিন কাটাতে হচ্ছে।

মৎস্যজীবীরা জানান, হাওরে পানি বেশি থাকায় জালে মাছ ধরা পড়ে না। সারাদিন মাছ ধরে দুইশ টাকাও আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভূইয়া  বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়ছে। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে সুনামগঞ্জের সর্বত্র পানি বাড়ছে। বৃষ্টিপাত না কমলে পানি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত জেলার ১ লাখ ৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। দুর্গতদের মধ্যে নগদ ৯ লাখ টাকা, ৬৮৫ টন চাল ও ৭৮৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, বৃষ্টি না হলে সুরমা নদীর পানি কমছে আবার বৃষ্টি হলে বাড়ছে। দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ে আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666