ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

“তলা বিহীন ঝুড়ি” থেকে কৃষি বিল্পবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০
ফাইল ছবি

করোনার ভাইরাসের প্রভাবে চরম খাদ্য সকংটে পড়েছে সারা সারাবিশ্ব। থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। যদিও বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃষি নির্ভর অর্থনীতি এবং খাদ্য ব্যবস্থায় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়নি।

তবে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু একটি দেশ স্বাধীন হবার পরেই প্রথম দেখা দেয় খাদ্য সংকট। এরপর ১৯৭৪ সালে শুরু হয় দুর্ভিক্ষ। সেই দুর্ভিক্ষই একটা জনপ্রিয় সরকারকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছিল। দেশের তখনকার অবস্থা দেখে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হতে যাচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশের তখনকার জনসংখ্যা বিবেচনায় তিনি ধারনা করেছিলেন বাংলাদেশ আর কখনোই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এরপর দেশের নানা প্রেক্ষাপট অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে হেনরি কিসিঞ্জারের সেই বাণীকে মিথ্যা প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি ঘটেছে খাদ্য বিল্পপ। বঙ্গবন্ধু এই দেশ নিয়ে সব সময় স্বপ্ন দেখতেন। এই দেশ হবে সোনার বাংলা, এখানে থাকবে না কোন দু:খ দারিদ্রতা। সেজন্য তিনি সব সময় খাদ্য নিরাপত্তার অগ্রাধিকার দিতেন।

যদিও একটি দেশের নাগরিকগণের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্য অন্যতম। তাই গত কয়েক দশকে পৃথিবীর আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাষযোগ্য জমি সংরক্ষণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বনায়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পৃথিবীর সবগুলো উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ, বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যস্ত হয়ে আছে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। পৃথিবী জুড়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং আরও কয়েকটি বিষয়ের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এখন সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের মধ্যে একটি।

বাংলাদেশে কুড়িগ্রাম নীলফামারি, লালমনিরহাটসহ চরাঞ্চলে এক সময় কার্তিকের মঙ্গা হতো। খাদ্য আমদানি করতে হতো। বিদেশের ওপর খাদ্যে নির্ভর করতে হতো।  কিন্তু বাংলাদেশে একটা নীরব কৃষি বিল্পব হয়েছে। সেই বিল্পবের ফলে দেশের সব খাদ্য সংকট দুর করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে সংসম্পুর্ণ। যদিও অভ্যন্তরিন কিছু কারনে জিনিপত্রের দাম বাড়লেও খাদ্য সংকট কখনো তৈরি হয়নি। বরং বিশ্বে চাল রপ্তানীতে এখন ৪র্থ দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। আলু উৎপাদনে বিশ্বে ৩য় দেশ। এছাড়াও এখন বারো মাস সবজি পাওয়া যায়। সারা বছর জুড়ে বিভিন্ন রকমের সবজিসহ নানা ধরনের কৃষি পণ্য উৎপাদন হয়। ক্ষুদা মঙ্গা দুর হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন দু বেলা দু মুঠো ভাত খেতে পারছে।

ম্যালথাস বাংলাদেশ নিয়ে তত্ব দিয়েছিলেন “খাদ্যশস্যের উৎপাদন যখন গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পায় তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে এবং এর ফলে বাংলাদেশ কখনো ঘুরে দাড়াতে পারবে না। ম্যালথাসের সেই তত্বকে মিধ্যা প্রমাণ করে দিয়ে বাংলাদেশ এখন খাদ্য ভান্ডারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের এই যে অভিযাত্রায় সেই অভিযাত্রায় কৃষি বিল্পবের ভুমিকা রয়েছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666