ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

বৃষ্টি বা ঘামে ভিজে জ্বর হলে

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৯

এ সময়ে ঘামে ভিজে বা কখনো বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা লাগতে পারে। আবহাওয়ার এ রকমে কিছু কিছু ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যায়। আবহাওয়ার এই দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে যারা খাপ খাওয়াতে পারেন না, তারাই আক্রান্ত হন জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথাসহ নানা অসুখে। যাকে “ভাইরাল ফ্লু” বা “ভাইরাল জ্বর” বলা হয়।

লক্ষণ

রোগীর মূলত জ্বর, কারও কারও মাথাব্যথা, সর্দি, অরুচি, গলাব্যথা, কাশির উপসর্গ দেখা দেয়। ঠান্ডা-সর্দির কারণে কান বন্ধ হতে পারে। কান বন্ধের সঙ্গে কানে ব্যথাও হতে পারে। অনেক সর্দি লেগে যেতে পারে । ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বরও দেখা দিতে পারে।

করণীয়

জ্বরের সময় যেই খাবারটির চাহিদা সবচেয়ে বৃদ্ধি পায়, তা হলো তরলজাতীয় খাবার। রোগীর বিপাকের হার বৃদ্ধি, শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিকে আনা, হজমে ব্যাঘাত না ঘটানো ইত্যাদি বিষয়কে মাথায় রেখে তরল খাবার নির্ধারণ করা হয়। তরল হিসেবে ফলের রস, স্যুপ, লাল চা ইত্যাদি খেতে পারেন। বিশেষ করে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল, যেমন : কমলা, মালটা, লেবু, জাম্বুরা, আনারস ইত্যাদি। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে। তরলের পাশাপাশি রোগীকে নরম বা অর্ধ তরল খাবার দিতে পারলে ভালো। রোগী যেন সহজে গিলে খেতে পারে এবং সহজে হজম হয়। যেহেতু তরল খাবারের ক্যালরি কম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কম পাওয়া যায়, তাই তরল খাবারের পাশাপাশি রোগীকে নরম খাবারও দিতে হবে। নরম পাতলা মুগ ডালের খিচুড়ি, জাও ভাত, সুজি, সাগু, পুডিং, নরম কাটা ছাড়া মাছ ইত্যাদি খাবার রোগীকে দিতে পারলে ভালো। সর্দি, কাশি বা সামান্য গলাব্যথা কোনো বড় ব্যাপার নয়। তবে একবার ঠান্ডা লাগলে তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবেই। কাশি বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে। সাধারণ কাশির চিকিৎসা আপনিই করতে পারেন। এ ধরনের কাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর ভালো হয়ে যায়। কাশির সঙ্গে যদি জ্বর হয়, তাহলে গুরুত্ব দিতে হবে। ঠান্ডা খাবার, ফ্রিজের পানি বাদ দিতে হবে। কুসুম গরম পানি পান করতে পারলে ভালো হয়। হালকা কুসুম কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গলা গড়গড়া করলে গলাব্যথা সহজেই ভালো হয়ে যায়। দিনে কমপক্ষে দুবার বা ৫ থেকে ১০ মিনিট সময়ে গড়গড়া করা উচিত।

ঘরোয়া যত্ন

জ্বর বাড়লে গা মুছে দিন, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সাধারণ প্যারাসিটামল ওষুধ খেতে দিতে পারেন।

নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন পানির ড্রপ ব্যবহার করা যায়।

খুসখুসে কাশিতে মধু বা আদার রস বেশ আরাম দেবে।

ভাইরাল ফ্লু বা জ্বর পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় এমনিতেই কমে যায়।

জ্বর দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্রমাত্রার হলে, কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে বা খেতে না পারলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডা. শাহ্‌রিন ইসলাম

প্রভাষক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666