ঢাকা শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ০২:২২ অপরাহ্ন

জমি চাষাবাদে পশুর পরিবর্তে মানুষ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
জমি চাষাবাদে পশুর পরিবর্তে মানুষ। ছবি: ঈশ্বরদীনিউজটুয়েন্টিফোর.নেট

বাগেরহাটের চিতলমারীতে জমি চাষাবাদে এখন গরুর জায়গায় মানুষ ব্যবহৃত হচ্ছে। গরুর বিচরণ ভূমি কমে যাওয়ার ফলে পশুর পরিবর্তে কাজ করছে মানুষ। এই তথ্য জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। তারা আরো জানান, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর খবার খড় বা ‘কুটো।’ টুঙ্গিপাড়া ও মোল্লাহাট উপজেলা হতে খড় বিক্রির জন্য আনা হচ্ছে চিতলমারীতে। কিন্তু গরুর বিচরণের সমতল ভূমি সংকট মোকাবেলার কোনো উপায় পাচ্ছে না গৃহস্থরা।

চিতলমারী সদর ইউনিয়নের আড়য়াবর্নি ডরপাড়া গ্রামের মৃত বনচারী ও বিহারী রায়ের বড় ছেলে সুধীর রায় । তিনি ভারত সীমান্ত হতে হেঁটে গরু এনে স্থানীয় হাটে বিক্রি ও হালচাষ পেশায় ছিলেন। গো-খাদ্য ও গরুর বিচরণ ভূমি সংকট সম্পর্কে বলেন, ‘সমতল ফসলী জমিতে নালা কেটে মাছের ঘের তৈরির ফলে গরুর বিচরণ ভূমি ও খাবার কমে যাচ্ছে। আগের মতো গরু বিচরণের সমতল মাঠ চিতলমারী উপজেলায় নেই। এজন্যে দেশী গরুও কমে গেছে। গরুর খাবার ঘাস তাও জন্মে ঘেরের পাড়ে, সেখানেও বিষাক্ততা। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে চিতলমারী এলাকায় মাছের ঘের শুরু হওয়ার পর থেকে গরুর বিচরণ ভূমি ধ্বংস হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিতলমারী-বাগেরহাট প্রধান সড়কের পাশে দুর্গাপুর মঠের কাছে প্রতিদিন কেনা-বেচা হচ্ছে গো-খাদ্য খড়। কিন্তু দাম চড়া। এখানে খড় ব্যবসার সাথে জড়িত বিভিন্ন এলাকার লোক।

প্রতিবেশী মোল্লাহাট উপজেলার আড়য়াডিহি গ্রামের আক্কেল আলীর পুত্র আল আমিন শেখ জানান, গত তিন বছর ধরে তিনি খড়ের ব্যবসার জন্য চিতলমারী দুর্গাপুর শিবমন্দিরের কাছে আসেন।

তিনি আরো জানান, টুঙ্গিপাড়ার তারাইল, মোল্লাহাটের আড়য়াডিহিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে খড় আসে চিতলমারীতে। মঠের কাছে এসে সেই খড় কিনে নিয়ে যায় চিতলমারীর বিভিন্ন গ্রামের গৃহস্থরা। প্রায় পাঁচ-সাত মণ ওজনের প্রতি আটি খড় বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে সাত হাজার টাকা দরে। কার্তিক থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত এই খড় বিক্রি হয়। আল আমিনের খড় ব্যবসায় প্রতিদিন আটজন লোক কাজ করে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, চিতলমারী উপজেলায় গরুর সংখ্যা ৫৯ হাজার ২৬৭টি। শুকনো খড় বা কুটো এবং ঘাস মিলিয়ে পূর্ণবয়স্ক একটি গরুর প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি খাবার প্রয়োজন। ঘেরের কারণে গরুর বিচরণ ভূমি কমে গেছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666