ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

অস্ট্রেলিয়াকে সর্বনিম্ন ৬২ রানের রেকর্ড ‘উপহার’ দিল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
জয়ের পর বাংলাদেশ দলের উদ্‌যাপন। ছবি: শামসুল হক

স্ট্যাম্প মাইক্রোফোনে ভেসে এল কথাটা, ‘সাকিব ভাই তাড়াতাড়ি আউট করেন, বাসায় যাব।’ উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে উইকেটকিপার নুরুল হাসান বলছিলেন সাকিব আল হাসানকে। সেই জিম্বাবুয়ে সফর থেকে বাড়ির বাইরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মাঝখানে চলে গেছে একটি ঈদ—পরিবার-পরিজনের ভালোবাসার ছোঁয়া পান না কত দিন!

অস্ট্রেলিয়া তখন কাঁপছে। চলছে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া। নুরুলের কণ্ঠে তাই তাড়াতাড়ি ম্যাচ শেষ করার আকুতি। সাইফউদ্দিন আগেই কাজটা এগিয়ে রেখেছিলেন অনেকটাই। নুরুলের কথামতো সাকিব বাকি কাজটাও করে দিলেন। অস্ট্রেলিয়াকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বনিম্ন রানে অলআউটের লজ্জা দিয়ে ৬০ রানে জিতল বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা নিজেদের করে নিল ৪-১ ব্যবধানে।

অস্ট্রেলিয়ার মধ্যেও কী বাড়ি ফেরার তাড়াটা একটু বেশি দেখা গেল না! ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আজও ভালো করতে পারেননি। ১২২ রানেই থেমেছে ইনিংস। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলীয়রাও নিজেদের শেষটা ভালো করতে পারল না।

৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতেই পড়েছে তাদের উইকেট। ৩ উইকেটে ৪৮ করার পর শেষ ৭ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার পড়েছে ১৪ রানে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে তারা শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে ৮ রানে।

আজ শেষ ম্যাচ খেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম থেকেই অস্ট্রেলীয় দলের বিমানবন্দর যাওয়ার কথা। সেখান থেকে ভাড়া করা উড়োজাহাজ ধরে সোজা দেশে।

বাংলাদেশে আসার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ছিল তাদের। তারাও অনেক দিন ঘরবাড়ি ছাড়া। কিন্তু তাই বলে ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে এমন তাড়াহুড়া নিশ্চয়ই অস্ট্রেলীয় দলের কাম্য ছিল না।

অস্ট্রেলীয় পত্র-পত্রিকা এ সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পরই বলেছিল সেই হারে নাকি সর্বকালের ‘তলানি’তে দল। আজ শেষ ম্যাচে ৬২ রানে গুটিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়ার পর নিশ্চয়ই নতুন কোনো বিশেষণ খুঁজে নেবেন তারা।

সফরে অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র জয়ের নায়ক ড্যান ক্রিস্টিয়ানকে আজ ওপেনই করতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফিরলেন ৩ রান করেই। বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি আরেক ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শের ইনিংস। নাসুমের আর্ম বলে আউট হন তিনিও। নাসুম শুরুতেই দুই ওভারে এ দুই উইকেট তুলে নিয়ে বড় ধাক্কা দেন অস্ট্রেলিয়াকে।

এরপরেও রান আসছিল। নতুন বলের গতি ব্যবহার করে এদিক-ওদিক থেকে রান পাচ্ছিল ম্যাথু ওয়েড, বেন ম্যাকডারমটরা। কিন্তু বল যতই পুরোনো হলো, রান করা যেন ততই কঠিন হয়ে উঠল। অধিনায়কের সঙ্গে ম্যাকডারমটের ২২ রানের জুটি ভাঙতেই ধস অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে।

মাত্র ১৩.৪ ওভারের মধ্যে অলআউট হওয়ার ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে আর নেই। আর ধসের শুরুটা হয় সাকিব ও দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের হাত ধরে। মাঝের ওভারে দুজন মিলে চোখের পলকে ৭ উইকেট তুলে নেন।

সাকিব ৩.৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৩ ওভার ১২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। নাসুম শুরুটা করে দিয়েছিলেন, মাহমুদউল্লাহও তাঁর অফ ব্রেকে নেন ১ উইকেট।

অস্ট্রেলিয়া এই সফরটা ভুলে যেতে চাইবে দ্রুতই। কিন্তু এটি তাদের মনে থাকবে অনেক দিন!

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666