ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৯

গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান। সিরাত জাহান স্বপ্না , মিসরাত জাহান মৌসুমিরা বল নিয়ে ছুটলেই দর্শকদের গর্জন। অনূর্ধ্ব- ১৯ বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ অনেক দিন পর পাওয়া গেল ফুটবলের আসল আমেজ। দর্শক সমর্থনের জবাবটাও ভালো দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে টুর্নামেন্টে করেছে শুভসূচনা। একটি করে গোল করেছেন স্বপ্না ও কৃষ্ণা রাণী সরকার।

ঘরের মাঠে নিজেদের টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে শুরু করতে পারার আনন্দ আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েরা প্রত্যাশা আর পূরণ করতে পারল কোথায়! মাঠে নামার আগে অতীত বিশ্লেষণে ধরেই নেওয়া হয়েছিল, আরব আমিরাতকে গোল-বন্যায় ভাসিয়ে দেবে মৌসুমিরা। প্রতিপক্ষকে বাগে পেয়ে গোল হাতছাড়া করার মিছিলে তা আর হলো না। গোলাম রব্বানি ছোটনের শিষ্যদের পায়ে দেখা যায়নি সুন্দর ফুটবলের বিজ্ঞাপনও। তবে ঘরের মাঠে এত বড় টুর্নামেন্টের শুরুতে চাপ সামলে জয় দিয়ে শুরু করা গেছে। সুন্দর ফুটবলের জন্য টুর্নামেন্টের বাকিটা পথ তো পড়েই রইল।

আসলে বাংলাদেশের মেয়েরাই প্রত্যাশা বাড়িয়ে রেখেছে। নিকট অতীতে ফুটবলের সব সুখবর তো এদের ঘিরেই। আজও শুরুটা হয়েছিল দারুণ। বাংলাদেশ যে অলআউট আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে, তা কিক অফেই বোঝা গিয়েছিল। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকার কিক অফের প্রথম পাসের পর সেই বল তাড়া করেছেন আটজন। ৩-৪-৩ ফরমেশনে শুরু করা বাংলাদেশকে দেখে বেশির ভাগ সময় মনে হচ্ছিল ২-২-৬ ফরমেশনে খেলছে। শেষ বাঁশি পর্যন্ত আক্রমণ ও প্রতিপক্ষের ওপর প্রেসিংটা চলেছে অনবরত। কিন্তু গোল মিস ও খেলোয়াড়েরা ব্যক্তিগত ঝলক দেখাতে গিয়ে ৩০ মিনিটে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার ব্যবধানটাকে আর বড় বানাতে পারেনি বাংলাদেশ।

১২ মিনিটে স্বপ্নার বুদ্ধিদীপ্ত গোলে এগিয়ে যাওয়া। ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের এরিয়াল থ্রু, অফসাইড ফাঁদ ভেঙে দ্রুত গতিতে বের হয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন স্বপ্না। পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে আসা আমিরাতের গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে, ১-০। মুহুর্মুহু আক্রমণের পর গোলের মুখ খুলে যাওয়ায় মনে হচ্ছিল, শুরু হয়ে গেল গোলের মিছিল। ১৮ মিনিটে অনায়াসে ব্যবধান ২-০ করতে পারতেন স্বপ্নাই। মারিয়া মান্দার ভলিতে ফাঁকা হয়ে যায় আমিরাতের রক্ষণভাগ। বলের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিলেন ভালো, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তালগোল পাকিয়ে গোলরক্ষকের হাতে তুলে দেন বাংলাদেশ স্ট্রাইকার।

৩০ মিনিটে ২-০ করেন কৃষ্ণা। মনিকা চাকমার কর্নারে জটলা থেকে কৃষ্ণা রাণী সরকারের হেড গোল লাইনের প্রান্তে এসে পড়লে শেষ মুহূর্তে হেড করে বল জালে পাঠান অধিনায়ক মৌসুমি। কিন্তু রেফারি গোলটি দিয়েছেন কৃষ্ণার নামেই। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। শুরুর ৩০ মিনিটেই ২ গোল হজম করে কোমরে হাত চলে যায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের। কিন্তু কে জানত এই দুই গোলেই ফুলস্টপ। বিশেষ করে যাদের জানা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে শেষ তিন ম্যাচেই বাংলাদেশের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে আরবরা। শেষ মুখোমুখিতে গত বছর সেপ্টেম্বরে এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ বাছাইপর্বেই বাংলাদেশের কাছে ৭ গোল হজম করেছিল তারা। কিশোরী সেই দলের সঙ্গে আরও চারজন যোগ করে আমিরাতের বর্তমান অনূর্ধ্ব- ১৯ দল। এমন দলের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত দুই গোল হয়ে রইল হতাশার। বিশেষ করে গোল মিছিলের দৃশ্যগুলো কাটা হয়ে ফুটার মতো।

বিরতি থেকে ফিরে স্বপ্নার শিশুসুলভ মিস। কৃষ্ণার রক্ষণচেরা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষকে একা পেয়ে হাতে তুলে দেন ম্যাচের প্রথম গোলদাতা। এমন আরও কিছু ভুল তো হলোই। এ কারণে ২-০ যে মন ভরাচ্ছে না। বাংলাদেশের মেয়েদের এত সুনাম শুনে প্রথম সরাসরি খেলা দেখতে বসে অনেক ফুটবলপ্রেমীর মন হয়তো ভরেওনি। তবে এই ফুটবলারদের ওপর ভরসা তাঁরা নিশ্চয়ই রাখবেন। বাংলাদেশ যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলছে এই টুর্নামেন্ট।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: