ঢাকা শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক খেলায় ৪ বছর নিষিদ্ধ রাশিয়া

খেলা সংবাদ
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
অলিম্পিকে আগামীবার দেখা যাবে না রাশিয়াকে। ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক খেলাধুলার আসরে রাশিয়াকে চার বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি। ফলে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলেও রাশিয়াকে দেখা যাবে না।

সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির (ওয়াডা) নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়। খবর: বিবিসি

তবে যেসব রুশ অ্যাথলিট প্রমাণ করতে পারবেন যে তারা বলবর্ধক মাদক ব্যবহার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত নন, তারা ব্যক্তিগতভাবে আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় অংশ নিতে পারবেন। তবে রুশ পতাকার পরিবর্তে একটি নিরপেক্ষ পতাকা নিয়ে তাদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে।

এর আগে রাশিয়ার অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির (রুসাডা) বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে এই কেলেঙ্কারির তদন্তে তারা সহযোগিতা করছে না। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তারা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার যেসব তথ্য হস্তান্তর করেছিল, তাতে কারসাজি করা হয় বলে অভিযোগ করছে ওয়াডা।

রাশিয়ায় সরকারি মদদে খেলাধুলায় ব্যাপকভাবে বলবর্ধক মাদক ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে কয়েক বছর ধরে। এর আগেও তিন বছরের জন্য রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে অবশ্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল, যদিও সিদ্ধান্তটি ছিল বেশ বিতর্কিত।

এবারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য রাশিয়াকে ২১ দিন সময় দেয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিকসে রাশিয়ার ১৬৮ জন প্রতিযোগী অংশ নিলেও তাদের রুশ পতাকার পরিবর্তে নিরপেক্ষ পতাকা বহন করতে হয়েছিল নিষেধাজ্ঞার কারণে।

২০১৪ সালে রাশিয়ার সোচিতে যে শীতকালীন অলিম্পিক গেমস হয়েছিল, তখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ডোপিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। রাশিয়া সেবার ১৩টি স্বর্ণপদকসহ মোট ৩৩টি পদক জিতেছিল।

রাশিয়া একটি দেশ হিসেবে যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় ২০১৫ সাল থেকে নিষিদ্ধ। তবে এবারের এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ‘ইউরো ২০২০’ ফুটবল টুর্নামেন্টে রাশিয়া অংশ নিতে পারবে। কারণ ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ‘ইউয়েফা’র বেলায় অ্যান্টি ডোপিং সংস্থার নিয়ম-কানুন প্রযোজ্য নয়।

যেভাবে কেলেঙ্কারিতে জড়ালো রাশিয়া

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ডোপিংয়ের অভিযোগ ওঠে ২০১৫ সালে। সেবছরের নভেম্বরে রাশিয়ার অ্যান্টি ডোপিং সংস্থা রুসাডা মাদক বন্ধে সহযোগিতা করছে না বলে ঘোষণা করে ওয়াডা। সংস্থার এক রিপোর্টে তখন বলা হয়েছিল, রাশিয়ায় সরকারি মদদেই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলেটিক্সে ব্যাপকভাবে মাদক ব্যবহৃত হচ্ছে।

এরপর ২০১৬ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, রাশিয়ায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চার বছর ধরে ডোপিং কর্মসূচি চলেছে যাতে করে তাদের প্রতিযোগীরা গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে পারে।

২০১৮ সালে রাশিয়ার অ্যান্টি ডোপিং সংস্থা ‘রুসাডা’র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল এই শর্তে যে তারা তাদের মস্কো ল্যাবরেটরিতে ২০১২ হতে ২০১৫ সালে করা সব পরীক্ষার ডেটা ওয়াডার হাতে তুলে দেবে। কিন্তু ২০১৭ সালে ফাঁস করা রিপোর্টের এক কপিতে দেখা যায় ডোপিং টেস্টে মাদক ব্যবহারের ঘটনা ধরা পড়েছে এমন অনেক তথ্য রুসাডা গোপন করেছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর