ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

কমিটি পেতে পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ছবি : সংগৃহীত

ক্যাসিনোকাণ্ডে সংগঠনের গায়ে দাগ লাগার পর গত বছরের শেষের দিকে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব পায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ক্ষমতাসীনদের এই সহযোগী সংগঠন তার সম্মেলন শেষে ইতিমধ্যে পার করে ফেলেছে প্রায় সাড়ে সাত মাস। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি সংগঠনটি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাস তিনেক আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা অনুমোদনের জন্য আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়া হয়। বর্তমানে সেটি বঙ্গবন্ধু কন্যার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

দেশে করেনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে দলীয় প্রধানের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির চূড়ান্ত তালিকা পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে মনে করছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা, তারা আশা প্রকাশ করছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনুমোদিত তালিকা তালিকা হাতে পেয়ে যাবেন। আর তাতে পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার অবসান হবে।

গত বছরের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম চার সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এদের মধ্যে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা রয়েছে। আর যুবলীগ এখনো তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ১৬ নভেম্বর। এতে নির্মল রঞ্জন গুহ সভাপতি এবং এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এড়পর তাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয় পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করার।

নতুন দুই শীর্ষ নেতা কমিটি গঠনে সংগঠনকে বিতর্কমুক্ত করতে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেন। ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেতে সব মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়ে। তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা মাস তিনেক আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়া হয়।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা দেওয়ার বিলম্ব কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য, পরিচ্ছন্ন একটি কমিটি উপহার দেওয়া তাদের জন্য জরুরি ছিল। তাছাড়া বিতর্কিত কাউকে নেতা বানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চালানো শুদ্ধি অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাননি তারা। তাই একটু বেশি সময় আর ভালো করে যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন।

কবে নাগাদ অনুমোদিত কমিটি পেতে পারেন বলে আশআ করছেন জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু  বলেন, ‘আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা মাস তিনেক আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছি। এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে হয়তো এটা বিলম্ব হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা এটা পেয়ে যাব। আমরা সেই অপেক্ষায় রয়েছি।’

গত বছরের ১৬ নভেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সম্মেলন উদ্বোধনের পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই শীর্ষ নেতার নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নতুন সভাপতি নির্মল আগের কমিটিতে সহসভাপতি ছিলেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক বাবুও ছিলেন আগের কমিটির সহসভাপতি।

ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসা আগের কমিটির সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কায়সারের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথও বাদ পড়েন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মকাণ্ড থেকে। প্রায় সাত বছর তারা সংগঠনটির নেতৃত্ব দেন।

কাউন্সিল অধিবেশনে কেন্দ্রের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন নেতার নামও ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

কমিটি ঘোষণার সময় ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে ছয়জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১২ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। এই প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর উত্তর-দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

দক্ষিণের সভাপতি হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক সাঈদ।

উত্তরের সভাপতি উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আনিসুর রহমান নাঈম।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666