ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

এনকাউন্টারের মানসিকতা আসলে আমাদের ছিল না, সাংবাদিক আরিফকে ফোনে বললেন ডিসি সুলতানা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০
সুলতানা পারভিন ও আরিফুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম জামিনে বেরিয়ে আসার পর মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বলেছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন। মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং আরিফুলের সই নেওয়া কাগজপত্র ফেরত দিতেও চেয়েছিলেন। জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, ‘এনকাউন্টারের মানসিকতা আসলে আমাদের ছিল না।’ আরিফুল মুক্ত হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে ফোনে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। সেই ফোনালাপ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ফোনালাপের ব্যাপারে জানতে চেয়ে আজ মঙ্গলবার প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। কুড়িগ্রামে থাকলেও প্রত্যাহারের আদেশ পাওয়ার পর থেকে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন। তবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সুলতানা পারভীন। সেখানে এ ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। লিখেছেন, তিনি পরের দিন বিষয়টি জানতে পারেন। কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাহিদার প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স অভিযানের অংশ হিসেবে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছিল বলে দাবি করেন সুলতানা।

এদিকে আরিফুলের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, নির্যাতন, হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু কান্তি দাশ, এস এম রাহাতুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন আরিফুল। আজকালের মধ্যে আদালতে এই মামলা করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের মামলা করা হবে বলেও জানান তাঁরা।

আরিফুল এখনো হাসপাতালেই আছেন। মারধরের কারণে তাঁর দুই আঙুলের হাড় ভেঙে গেছে। তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। আরিফুল সাংবাদিকদের জানান, জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই এক ব্যক্তির মাধ্যমে জেলা প্রশাসক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বিদায়ী জেলা প্রশাসক নিজের ফেসবুক পেজে বলেন, ১৩ মার্চ রাতে নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় কুড়িগ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জন পুলিশ, ৫ জন আনসার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টরসহ ৩ জন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

তবে মাদকদ্রব্যের কর্মকর্তারা এ ধরনের অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেন। প্রথম আলোর হাতে আসা একটি নথিতে দেখা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু কান্তি দাশ ১৩ মার্চ রাত ১১টায় অভিযান চালানোর জন্য সাতজন পুলিশ চান। অভিযানের সময় সেই পুলিশ তাঁর সঙ্গে ছিল। তবে রিন্টু কান্তি দাশ এ নিয়ে কথা বলতে চাননি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাগজপত্রে দুজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ আরিফুল ও আবু বকর। এই দুই সাক্ষী সাংবাদিকদের বলেছেন, ঘটনার পরের দিন সকালে তাঁরা সদর থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পরিচিত একজন সরকারি গাড়িচালক তাঁদের ডেকে একটি কাগজে সই করতে বলেন। তাঁরা সই করে দেন। ওই কাগজে কী ছিল তা জানেন না তাঁরা।

শুক্রবার মধ্যরাতে প্রত্যাহার হওয়া সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় গিয়ে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর সাজানো মামলায় ৪৫০ গ্রাম দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা সঙ্গে দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666