ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:০১ অপরাহ্ন

পাবনায় মনোনয়ন পাইয়ে দিতে আ.লীগে ভুয়া পদ দেখিয়ে নাম পাঠানোর অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সংবাদ সম্মেলন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ভেড়ামারা বাজারে। ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে তাঁর ভাগনেকে ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দিতে ভুয়া পদ দেখিয়ে নাম পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। লোকমান হোসেনের ভাগনে ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। এরপরও নিজের কমিটিতে তাঁকে সদস্য দেখিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে তিনি তালিকা দিয়েছেন।

উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী করতেই এই কারসাজি করা হয়েছে। শুধু তা–ই নয়, এর আগের নির্বাচনেও একই কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার ভেড়ামারা বাজারের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন। তিনি নিজে পারভাঙ্গুড়া ইউপির চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এর আগে গত বুধবার তিনি অভিযোগটি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে লিখিতভাবে জানান।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক কোনো দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। গত ইউপি নির্বাচনে তাঁর মামা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেন কারসাজি করে ভাগনের মনোনয়ন পাইয়ে দেন। এতে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরেও কোনো দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি কোনো অবদান রাখেননি। উল্টো স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করে রেখেছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, একই পন্থায় এবারও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজের ভাগনেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা পাঠানোর সময় তিনি নিজের ভাগনেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য দেখিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। নিজের ভাগনের নামে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশও করেছেন। এটা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহির উদ্দিন বলেন, ‘হেদায়েতুল উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হয়েছেন বলে জানা নেই। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে তালিকা পাঠানোর সময় আমার স্বাক্ষর নেওয়া হলেও ভেতরে পড়তে দেওয়া হয়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজেই এটা করেছেন।’

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় হেদায়েতুল হক পদাধিকার বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের কো-অপ্ট সদস্য হয়েছেন। এখানে কোনো লুকোচুরির বিষয় নেই। হয়তো অনেকেই বিষয়টি জানেন না, এ জন্য বিরোধিতা করছেন।

তবে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক বলেন, ‘চেয়ারম্যান হলেও পদাধিকার বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666