ঢাকা শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

যু্ক্তরাষ্ট্রে ৬ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার: পাবনার বাড়িতে শোকাতুর স্বজনরা

পাবনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১
যুক্তরাষ্ট্রে এক বাংলাদেশি পরিবারের ৬ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

যু্ক্তরাষ্ট্রে ৬ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার: পাবনার বাড়িতে শোকাতুর স্বজনরাযু্ক্তরাষ্ট্রে ৬ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার: পাবনার বাড়িতে শোকাতুর স্বজনরা

পাবনা শহরতলীর দোহারপাড়ার মেয়ে আইরিন ইসলাম মেরীর সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর আগে বিয়ে হয় পুরান ঢাকার তৌহিদুল ইসলামের। বিয়ের পর থেকেই আমেরিকা প্রবাসী এই দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছিল সুখী পরিবার। দু বছর আগে পাবনা থেকে মা আলতাফুন্নেসাকে ডালাসে নিয়ে যান মেরী। সোমবার (৫ এপ্রিল) ডালাসের অ্যালেন সিটির বাসা থেকে পরিবারটির ছয় সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ পাবনার বাড়িতে পৌঁছানোর পর শুরু হয়েছে শোকের মাতম।

পুলিশ বলছে, পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে আইরিন-তৌহিদ দম্পতির দুই ছেলে ফারহান ও তানভীর। নিহতরা হলেন– পাবনার দোহার পাড়ার মৃত আবুল মোসলেম শেখের স্ত্রী আলতাফুন্নেসা (৭৭) , তার মেয়ে আইরিন ইসলাম মেরী ( ৫৫), তার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম (৫৬), মেয়ে পারভিন তৌহিদ ( ১৯) ও দুই ছেলে তানভীর তৌহিদ (২১) ও ফারহান তৌহিদ (১৯)।

স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ফারহান, তানভীর। পরিবারেও নেই তেমন কোন সংকট। হতাশার কারণে পরিবারের সবাইকে হত্যা করে তারা আত্মহত্যা করেছে এমন কথা মানতে পারছেন না কেউ।

আকস্মিক এ মৃত্যুর খবরে সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাদের কান্নার রোলে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এমন মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে সুষ্ঠু তদন্তও দাবি করেছেন তারা।

নিহত আলতাফুন্নেসার বড় ছেলে আরিফুর রহমান আলফা বলেন, ‘আমার বোন কেবল তার পরিবারই নয়, আমাদেরও সবকিছু দেখভাল করতো। তার নিজের সংসারে কখনোই অশান্তি ছিল না। ছেলেমেয়েরাও প্রতিভাবান, মেধাবী ও ভদ্র। তারা বাবা-মায়ের পাশাপাশি সেখানে বেড়াতে যাওয়া নানিরও (তার মা) যত্ন নিত। এমন ছেলেরা বাড়ির সবাইকে হত্যা করেছে তা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না।’

নিহত আলতাফুন্নেসার ছোট ছেলে আবুল কালাম আজাদ হিরণ বলেন, ‘মা গত বছর আমেরিকায় বোনের বাড়িতে গেছেন। করোনার কারণে আটকে গিয়েছিলেন। আগামী ৭ এপ্রিল তার পাবনায় ফেরার কথা ছিল। পরিবারের সবাই মিলে মাকে বিদায় জানাতে টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে সেখানে আমার ভাগনি পারভিনকেও নিয়ে এসেছিল। কে জানত তাদের এমন মৃত্যু হবে।’

হিরণ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, বিষয়টি যেন সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।’

স্বজনরা জানান, নিউইয়র্ক থেকে নিহত আলতাফুন্নেসার বড় ছেলে টেক্সাস পৌঁছলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর