ঢাকা সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

পাবনায় জীবিত থেকেও মৃত লোকমান হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
জীবিত লোকমান হোসেন মণ্ডলকে ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

লোকমান হোসেন মণ্ডল। জন্ম ১৯১৭ সালে। বয়স ১০৪ বছর। বয়সের কারণেই বয়স্ক ভাতা পেতেন শতবর্ষী এই মানুষটি। কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ জীবিত থাকতেও কাগজে–কলমে তিনি এখন মৃত। তথ্য সংগ্রকারীরা ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ভুল তথ্য দেওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারীদের ভুলে জীবিত থেকেও ভোটার তালিকায় মৃত লোকমান হোসেন মণ্ডলের বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের গুপিনপুর গ্রামে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোকমান হোসেন বলেন, ‘কীভাবে আমি মারা গেলাম বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয় লোকজন ও বৃদ্ধ লোকমান হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোকমান হোসেন একজন দরিদ্র কৃষক। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-৭৬১৮৩৭৬৩৩৫৫২৬। ওই পরিচয়পত্রে তাঁর জন্ম ১৯১৭ সালের ১৮ আগস্ট উল্লেখ করা হয়েছে। দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে মারা গেছেন। মৃত ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে  সংসার চলে। ফলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ৭ বছর আগে তাঁকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছিল। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে ঠিকমতো ভাতাও পাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

লোকমান হোসেন বলেন, বয়স্ক ভাতা বন্ধ হওয়ার পর তিনি ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কাগজ–কলমে তিনি আর জীবিত নেই। ভোটার তালিকায় তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছে। ফলে তাঁর ভাতার কার্ডটি বন্ধ হয়ে গেছে। পরে তিনি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। ফলে তাঁর ভাতার কার্ডটিও আর চালু হয়নি।

সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সামছুল আলম বলেন, ‘লোকমান হোসেন এখনো জীবিত আছেন। আমরা নিজেরাও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত আছি। আমাদের ধারণা, নির্বাচন কমিশনের তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় লোকমান হোসেনকে মৃত দেখিয়েছেন। ভোটার তালিকায় মৃত থাকায় দরিদ্র মানুষটি ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমন্বয়কারী নূরে শাহরিন বলেন, লোকমান হোসেন মণ্ডলের মতো একই ইউনিয়নে কণিকা রানী সাহা নামে এক নারীর ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। ভোটার তালিকায় তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে। ফলে তাঁদের বয়স্ক ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ভুল তথ্য দেওয়ায় সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা আবেদন করলে আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666