ঢাকা শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে অতিথি না করায় প্রধান শিক্ষককে পিটুনি

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালকে শিক্ষার্থীদের সামনে বেদম প্রহার করে রক্তাক্ত করা হয়।

ঈশ্বরদীর চরমিরকামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথি না করায় শিক্ষার্থীদের সামনেই প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আর এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মারধর ও বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সকালে সংবাদ সম্মেলনে চরমিরকামারি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মুন্তাজ আলী বিশ্বাস, আবুল মুনছুর খান, ডাবলু বিশ্বাস ও জাকাত আলী জাতীয় পতাকা অবমাননা করা হয়েছে বলে দাবি করে বলেন, স্কুলে মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল লিটন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়ে শহরে আওয়ামী লীগের বিজয় র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করতে যান। র‌্যালি শেষে তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মিন্টুকে নিয়ে স্কুলে আসেন।

এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তোলিত জাতীয় পতাকা নামিয়ে আবারো প্রধান অতিথিকে দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হন। এলকাবাসী জাতীয় পতাকা অবমাননা করার দায়ে অভিযুক্ত করে প্রধান শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

এদিকে বিকেলে আহত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল লিটন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তাহাজ উদ্দিন সরদার, শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সভাপতি আব্দুল করিম, সদস্য মনোয়ার হোসেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি না করায় তাঁর বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশন এবং আত্মিয়-স্বজন ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল আরও বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনসের খানকে আগে থেকেই বলা ছিল। তিনি বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধান অতিথি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মিন্টুকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এসময় স্থানীয় সাবেক এমপি মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের এনজিওর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালকে শিক্ষার্থীদের সামনেই বেদম প্রহার করে রক্তাত্ত করেন। এসময় প্রধান অতিথি মোখলেছুর রহমান মিন্টুকে অবরুদ্ধ করে লাঞ্চিত করা হয় বলেও তাঁরা জানান।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পরে নামানোর ঘটনা সম্পূর্ণই মিথ্যাচার বলে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন তাঁরা আরও বলেন, জাতীয় পার্টির এই সাবেক এমপি মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসকে প্রধান অতিথি না করার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাঁরই ব্যক্তিগত এনজিও নিউএরা ফাউন্ডিশনের কর্মচারী মুক্তার খান, কুদ্দুস বিশ্বাস, নাহিদ খান ও আজিজল মালিথা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক টেনে হিঁড়ছে বের করে এনে শিক্ষার্থীদের সামনে বেদম প্রহার করেন। ঘটনার সময় মঞ্জুু বিশ্বাস স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধান শিক্ষক জানান। প্রধান শিক্ষকে মারধরের সময় বিজয় দিবসে বিদ্যালয়ে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভয়ে দিক বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে।

এ বিষয়ে সাবেক এমপি মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস জানান, প্রধান শিক্ষককে কে বা কারা প্রহার করেছে তা তিনি জানেন না।

তিনি অভিযোগ করে জানান, প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের পূর্ব পুরুষরা রাজাকার ছিল। জাতীয় পতাকা অবমাননা করায় এলাকাবাসীর সাথে ঝামেলা হতে পারে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবী করেন এই সাবেক এমপি।

এদিকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  শিহাব রায়হান।

 

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: