ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা: ‘একাত্তরের পরেও থেমে নেই বুদ্ধিজীবী হত্যা’

রিয়াদ ইসলাম
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস।

বাংলাদেশকে মেধা শূন্য করার পাশাপাশি মুক্তবুদ্ধির চর্চা আটকাতেই একাত্তরে সাম্প্রদায়িক শক্তি বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল বলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের এক আলোচনায় বলেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস।

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে টার্গেট কিলিংয়ে লেখক-অধ্যাপকসহ মুক্তমনাদের হত্যার প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলছেন, মুক্তবুদ্ধির চর্চা আটকাতে একাত্তরের পরেও থেমে নেই বুদ্ধিজীবী হত্যা।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব চত্বরে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মুক্তমনাদের ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ মতো পাকিস্তানের তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাও ফরমান আলী বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের আল-বদর ও আল-শামসের মাধ্যমে ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আলোচনায় বলছেন নুরুজ্জামান বিশ্বাস।

ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের যারা পতাকা দিয়েছিল তাদেরও বিচার হবে। রাজাকাররা যেমন অপরাধী, তাদের যারা পতাকা দিয়েছিল তারাও সমান অপরাধী।

তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে পাকিস্তানিদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধীরা। ১৫ আগস্ট এর পর দেশের পরিবেশ বদলে গিয়েছিল। নিত্যদিন কারফিউ চলতো। যারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিল তারা দেশের মন্ত্রী, এমপি হলো। সেনা আইন ভেঙ্গে কারফিউ এর মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে স্বাধীনতা বিরোধী। নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক ঘোষণা করে আবার যুদ্ধাপরাধীদের সমাজের বিভিন্ন স্থানে বসিয়েছিলো তারা।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান বলেন, তারা যে পঙ্গু করতে চেয়েছিল, মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল; তারা অনেকখানি সফল হয়েছেও। কারণ আমরা এখনো কিন্তু ঠিক যাদেরকে হারিয়েছি, তাদের মাপের ব্যক্তিত্ব, পাণ্ডিত্য বা সমমর্যাদার কাউকে পাইনি। পাকিস্তানিরা এদেশের রাস্তা-ঘাট চিনতো না, তাদের সহযোগিতা করেছে এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-আল শামস। এ দোসররা এদেশে জন্ম না নিলে বুদ্ধিজীবীরা হত্যার শিকার হতেন না।

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক উদয় নাথ লাহেড়ী বলেছেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন ১৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় যখন নিশ্চিত, ঠিক তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের রাতের আঁধারে চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বুঝতে পেরেছিল, পরাজয় তাদের অনিবার্য। তাই পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাহীন ও পঙ্গু করতে দেশের বরেণ্য সব ব্যক্তিদের রাতের অন্ধকারে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছে। তাই সূর্য সন্তানদের জাতি সবসময়ই স্মরণ করবে।

আলোচনা সভার শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়।

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেনের সঞ্চালনার অন্যদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী, পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য শফিউল আলম বিশ্বাস, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি জোমসেদ আলী ও জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহ্জেবিন শিরিন পিয়া বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666