ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক ছিলেন ঈশ্বরদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুহুরুল হক

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জহুরুল হক ঈশ্বরদী থেকে বিদায় নিলেন। বিদায়ী এই এসপির হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন পাবনা জেলা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম।

পুলিশ বাহিনীর যেমন সুনাম আছে তেমনি খানিকটা দুর্নাম ও রয়েছে। তবে সব পুলিশ যে খারাপ তা কিন্তু নয়, কিছু ব্যতিক্রম ও রয়েছে। তেমনই একজন ব্যতিক্রমী পুলিশ অফিসার ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জহুরুল হক।

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বদলি আদেশ হয়েছে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাতে পাবনা পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হককে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এদিকে তাঁর বিদায় বেলায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ঈশ্বরদীর সাধারণ মানুষ।

ছোট বড় যে কোন সমস্যায় পড়ে ঈশ্বরদী উপজেলার সাধারণ মানুষ ছুটে আসেন সার্কেল অফিসে। যে কোন কাজ নিয়ে তাঁর কাছে একবার যে গিয়েছে তার আন্তরিকতা এবং ব্যবহারে তাঁকে প্রশংসা না করে কারও উপায় নেই । বর্তমানে সবার মুখে মুখে সৎ, নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন তিনি। সাধারন ও অসহায় মানুষের যে কোন সমস্যা ও বিপদে তিনি ঝাপিয়ে পড়েন সবটুকু সেবা দিয়ে। তাইতো তিনি ঈশ্বরদীবাসীর সকলের একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব।

জানা যায়, উপজেলায় ডাকাত চক্র গ্রেফতার, মাদক ও জুয়াড়ীদের আত্মসমর্পন, পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ন সমাধান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে সকল পেশা ও শ্রেণীর জনগণের সমন্বয়ে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গি, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও যৌতুক বিরোধী মতবিনিময় সভা করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। প্রতিদিন একাধিক সেবাপ্রার্থী যেকোন বিপদে-আপদে সরাসরি ছুটে আসেন এ কর্মকর্তার দপ্তরে। কোন তদবির কিংবা লেনদেন ছাড়াই শতভাগ নিরপেক্ষভাবে  সকল সমস্যার শান্তিপুর্ণ সমাধানও পাচ্ছিলেন সাধারণ মানুষ। যার কারণে পাবনা জেলা পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসও বেড়েছিল।

এ পুলিশ কর্মকর্তার আন্তরিক পুলিশি সেবায় উপকৃত কয়েকজন জানান, ৫০/৬০ বছরের বিরোধ আদালতে বছরের পর বছর ঘুরেও কোন সমাধান না পেয়ে তাঁর কাছে এসে সু-বিচার ও উভয়ের মাঝে শান্তিপুর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছেন।

অন্যদিকে ঈশ্বরদী সচেতন মহল প্রশংসা করে বলেন, ঈশ্বরদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মত দায়িত্ববান ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা প্রতিটা উপজেলায় থাকলে পুলিশের ইমেজ আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ পুলিশকে সত্যিকার ভাবেই ভালোবাসবে।

বিদায়ী এসপি বলেছেন, ‘আমি আসার পূর্বে ঈশ্বরদী কেমন ছিল? এখন কেমন আছে তা আপনারা অবগত আছেন। আমি কাউকে ছাড় দিই নাই। উপজেলার সংসদ সদস্য ও মেয়র আমাকে সাহায্য করেছেন। তারা কেউ কখনো বাধা দেয়নি। তদবির করেনি। তাই আমি অপরাধীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে পেরেছি। ঈশ্বরদী সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাই আমি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পেরেছি।’ যেখানেই যাবেন সেখানেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে বলে জানান।

প্রসঙ্গত : গত ২০ নভেম্বর ঈশ্বরদী থেকে ঢাকার হেড কোয়ার্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয় তাঁকে। তিনি ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীতে যোগদান করছিলেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666