ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১০:০৬ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে এসএসসি ফরম পূরণে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

ঈশ্বরদী উপজেলার পাঁচটি বিদ্যালয়ে ২০২০ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণে অরিতিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাঁদের অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফির চেয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রূপপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাকুড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজ, নারিচা মশুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও এমএ গফুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালেও অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ হয়নি।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয়গুলোর কয়েকজন শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৮৯০ টাকায়। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকার পরিমাণ ২ হাজার ৫ টাকা। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফির চেয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা উপলক্ষে বিশেষ ক্লাশ করানোর নামেও টাকা নেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকেরা বলছেন, অতিরিক্ত টাকা কোন খাতের জন্য নেওয়া হচ্ছে, তা বোঝার উপায় নেই কারণ, এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোন রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে অভিযোগের বিষয়ে পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি জমশেদ আলী বলেন, নির্ধারিত ফির বাইরে বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক খরচ আছে। সেই খরচ মেটাতেই বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা ব্যক্তি স্বার্থে নয়, বিদ্যালয়ের স্বার্থে।

আর বিশেষ ক্লাসের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে নারিচা মশুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাগিব হোসেন বলেছেন, ‘অতিরিক্ত ক্লাস বা কোচিংয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। ফরম পুরণের জন্য যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে খরচ করা হবে’। তবে শিক্ষার্থীরা ও অবিভাবকেরা আপত্তি করলে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় পাঁচটিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে ১ হাজার ৮৯০ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৫ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৯০০ টাকা। পাকুড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৭০০ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে নারিচা মশুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও এমএ গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

পাঁচটি বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী জানায়, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় ফরম পূরণের নির্ধারিত টাকা জোগার করতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হয়েছে। এর ওপর বাড়তি টাকার চাপ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগটি শুনেছি। এরপরই প্রধান শিক্ষকদের সতর্ক করা হয়েছে। বেশি টাকা যে সকল প্রতিষ্ঠান নিয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666