ঢাকা বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগ: দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব, সব কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয় ২০১৩ সালের জুনে। কমিটির মেয়াদকাল তিন বছর। পেরিয়ে গেছে ছয় বছরের বেশি সময়। পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালের অক্টোবরে। এই কমিটির মেয়ারও পূর্ণ হয়ে অতিরিক্ত দুই বছর পার হতে চলেছে। একই অবস্থা কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিরও।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে ঈশ্বরদীতে দলের মধ্যে দ্বন্দ চলে আসছে। কমিটিতে নাম অন্তর্ভূক্ত না হওয়া, পদ না পাওয়া নির্বাচনে নিয়ে মনোমালিন্যের পাশাপাশি এলাকায় একচ্ছত্র অধিপত্য ও ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দলের একাধিক নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে। এ কারণে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও কমিটি গঠন হচ্ছে না। অধিকাংশ কর্মী সংগঠনের চেয়ে একেকজন নেতার পেছনে বেশি সময় ব্যয় করছেন। কেন্দ্রের অনেক নেতা বিষয়গুলো জানলেও দ্বন্দ্ব-সংঘাত মেটেনি। ফলে দীর্ঘদিন কমিটি হচ্ছে না। উপজেলা কমিটির এক নেতা বলেন, ‘বিষয়গুলো আমাদের দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা জানেন। কিন্তু তাঁরা কী কারণে নতুন কমিটি গঠন করছেন না, তা বোধগম্য নয়।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপটি নায়েব আলী বিশ্বাস বলেন, নানা কারণে সঠিক সময়ে সম্মেলন করা হয়নি। কেন্দ্র থেকেও নতুন কমিটি গঠনের জন্য তাঁদের সেভাবে তাগিদ দেয়নি। তবে কারণ যাই হোক না কেন যথাসময়ে কমিটি হওয়া দরকার। এতে দলে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়বে। এই লক্ষ্যে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা সবাইকে নিয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

ছয় বছর আগে ২০১৩ সালের ১১ জুন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে আনিছুন্নবী বিশ্বাসকে সভাপতি ও মখলেছুর রহমান মিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। আনিছুন্নবী বিশ্বাস মারা যাওয়ার পর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস দল পরিচালনা করছেন। কমিটির মেয়াদ পার হয়েছে তিন বছর আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সম্মেলন বা কমিটি গঠন করা হয়নি।

২০১৪ সালের অক্টোবরে আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকে সভাপতি ও ইছাহক আলী মালিথাকে সাধারণ সম্পাদক করে দলের পৌর কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকে বিভিন্ন কারণে উপজেলা কমিটির সঙ্গে পৌর কমিটির দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এসব দ্বন্দ্বের কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা বলেন, বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে নতুন কমিটি হচ্ছে না। নতুন কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বও সৃষ্টি হচ্ছে না। এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার।

প্রায় ১৪ বছর আগে জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি ও ইব্রাহিক হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয় শ্রমিক লীগের ঈশ্বরদী কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত আ. লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দ্বিবার্ষিক সম্মেলন স্থগিত করা হয়। তাই এখন পুরোনো কমিটি দিয়ে চলছে কার্যক্রম। কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল সরদার বলেন, কমিটি গঠনের জন্য দলের জ্যোষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের একই অবস্থা। সার বছর আগে গঠন করা হয়েছিল উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি। দলের দুই-তিনজন নেতা ছাড়া সাংগঠনিক কাজে তেমন কাউকে দেখা যায় না। ঝমিয়ে পড়েছে এই সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, ইতিমধ্যে পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয়েছে। নতুন জেলা কমিটি গঠনের পরপরই ঈশ্বরদীসহ দেশের অন্যান্য উপজেলার কমিটি গঠন করা হবে।

নতুন নেতৃত্ব না আসায় দীর্ঘদিন ধরে স্থবির কৃষক লীগের উপজেলা ও পৌর কমিটির কার্যক্রম। নিয়মিত সাংগঠনিক বা কর্মিসভা হয় না। নেতা-কর্মীরা কে কোথায় থাকেন তা-ও অনেকে জানেন না। কত সালে ওই দুটি কমিটি গঠন করা হয় দলের অনেক নেতা তা জানতে পারেননি। কৃষক লীগের এক নেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আগে আমরা বিনা পয়সায় দলের কাজ করেছি, এখন টাকাপয়সা ছাড়া অনেকেই দলের কাজ করতে চায় না। দলে এসেই টাকা কামানোর চিন্তা।’

আট বছর আগে গঠন করা হয়েছিল উপজেলা কৃষক লীগের কমিটি। কমিটির সভাপতি ইউসুফ আলী ঘন্টু মালিথা অসুস্থ। সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান মালিথাও অসুস্থ। ফজলুর রহমান মুঠোফোনে জানান, জেলা থেকে সম্মেলন ও নতুন কমিটি করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন যেন সম্মেলন করা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের আগ্রহ নেই। তবে তিনি চেষ্ঠা করছেন যাতে নতুন কমিটি গঠন করা যায়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: