ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

বিজয়া দশমী আজ, ঈশ্বরদীর মণ্ডপে বাজছে বিদায়ের সুর

তোফাজ্জল হোসেন
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা বিজয়া দশমী আজ মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। সোমবার (০৭ অক্টোবর) বাজছে বিদায়ের সুর। দেবী এসেছে ঘোড়ায়, যাবেও ঘোড়ায়। মহানবমীর সন্ধ্যায় আরতি শেষে দেবীর বন্দনায় ঈশ্বরদী উপজেলার ২৭টি পূজামণ্ডপে বিষাদের সুর বাজতে শুরু করে।

মহানবমীতে পূজা শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টায়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতি প্রতিযোগিতা। দিনভর চলে চণ্ডীপাঠ আর ভক্তদের কীর্তনবন্দনা। উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়। নবমী পূজা শেষে অশ্রুসজল নয়নে ভক্তরা দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার পায়ে অঞ্জলি দিয়েছে।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, নবমী তিথিতে রাবণ বধের পর শ্রী রামচন্দ্র এই পূজা করেছিলেন। নীলকণ্ঠ ফুল, যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা। নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদলাভ হয়।

শাস্ত্র অনুযায়ী- সোমবার শাপলা, শালুক ও মৌবাড়ীয়া শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরে বলিদানের মাধ্যমে দশভুজা দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা শুরুর পর ভক্তরা প্রার্থনা করতে থাকে দেবীর উদ্দেশে। নীল অপরাজিতা ফুল নবমী পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেয়া হয়। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়। পূজা শেষে যথারীতি অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার মা দুর্গার বিদায়। তাই শেষবারের মতো দেবীর আশীর্বাদ কামনায় নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর সব বয়সের ভক্ত নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করে। প্রতিটি মণ্ডপেই কয়েক দফা করে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়। বিদায় বেলায়ও চলেছে ঢাক আর শঙ্খধ্বনি, টানা মন্ত্র পাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, ঢাকের বাজনার সঙ্গে ছিল ধুনচি নৃত্য। সন্ধ্যায় আরতির পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শৈলপাড়া মৌবাড়ীয়া শ্রী শ্রী দূর্গা পৌর এলাকার বারোয়ারী ঠাকুরবারী সত্য নারায়ন মন্দির, কাচারী পাড়া এলাকার হরেকৃষ্ণ সংঘ মন্দির, স্কুলপাড়া বারোয়ারী পূজা মন্দির এবং ইউনিয়নের দাশুড়িয়া বাজার বারোয়ারী মাতৃ মন্দির, পাকশী সার্বজনিন পূজা মন্দির ও ফরিদপুর দূর্গা মন্দিরে আয়োজনে মানুষের সমাগম ছিল বেশি।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গনেশ চন্দ্র সরকার ও সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী বলেন, আজ সকালে দশমী পূজা শুরু হবে, এর মধ্যে পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন করা হবে। সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণ। সকল মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে খন্ড খন্ড বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করবে। এরপর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

পূরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লংকা যাত্রার আগে শ্রী রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের পূজাকে এজন্যই হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: