ঢাকা সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকাকে অপহরণ, প্রেমিক গ্রেফতার

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
অপহরণকারী মো. শাওন (বামে) ও অপহৃত কলেজছাত্রী ফারহানা-ই-জাহান রাখি (ডানে)।

ঈশ্বরদী থেকে অপহৃত কলেজছাত্রী ফারহানা-ই-জাহান রাখি (১৬) অপহৃত হওয়ার ঠিক দুমাস পর তাকে উদ্ধার করেছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাকে উদ্ধার ও তার প্রেমিক দাবিদার অপহরণকারী মো. শাওনকে (১৯) ঢাকার আশুলিয়া থানার গৌরিপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই, পাবনা শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাখি ঈশ্বরদী সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী গ্রামের মৃত ইয়ারুল ইসলামের মেয়ে। কথিত প্রেমিক ও অপহরণকারী মো. শাওন (১৯) নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার মিস্ত্রীপাড়া গ্রামের মাহবুব মোল্লার ছেলে। গত ২৯ জুলাই রাখিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শাওন ঈশ্বরদী থেকে অপহরণ করেছিল বলে পিবিআই জানিয়েছে।

পিবিআইয়ের পাবনা জেলা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, গত ২৯ জুলাই ফারহানা-ই-জাহান রাখি কলেজে যাওয়ার সময় আলহাজ মোড় থেকে রাখির পরিচিত শাওন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে। অপহরণের ঘটনায় রাখির মা আফরোজা বেগম গত ১ আগস্ট ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশ তদন্ত করে কোনো কুল কিনারা না পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেন। পিবিআই পাবনা জেলা প্রধান মামলাটি তদন্তের নির্দেশনা পেয়ে এসআই লক্ষী কান্ত রায়ের ওপর তদন্তভার অর্পণ করেন।

পিবিআই আরও জানায়, অপহরণকারী শাওন কিছুদিন গাইবান্ধায় রাখিকে আটকে রাখে। এরপর অবস্থান বদল করে ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকার গৌরিপুর নামক স্থানে একটি ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়।

পুলিশ বিশেষ অনুসন্ধান চালিয়ে আশুলিয়া এলাকা থেকে শুক্রবার বিকালে রাখিকে উদ্ধার ও তার প্রেমিক দাবিদার অপহরণকারী মো. শাওনকে গ্রেফতার করে।

পিবিআই, পাবনার উপপরিদর্শক (এসআই) লক্ষী কান্ত রায় জানান, শাওনের সঙ্গে ২০১৮ সালে নাটোরের কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজে পড়ালেখার সময় মামলার ভিকটিম ফারহানা-ই-জাহান রাখির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্ক আট মাস চলার পর উভয় পরিবার জেনে যায়। এরপর রাখির অভিভাবকরা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে নাটোর থেকে ঈশ্বরদী সরকারি মহিলা কলেজে এনে ভর্তি করে দেন।

কিছুদিন পর রাখি ও শাওন আবার যোগাযোগ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই প্রেমিক শাওন কলেজ ছাত্রী রাখিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে প্রথমে গাইবান্ধা যায়। এর ১০ থেকে ১৫ দিন পরে ঢাকার আশুলিয়ার গৌরিপুরে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে তারা।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, আসামি শাওনকে শনিবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভিকটিম কলেজছাত্রীর জবানবন্দি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: