ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো নির্মাণ: পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হতে পারে

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯
ঈশ্বরদীর ম্যাপ

ঈশ্বরদীতে অভ্যন্তরীন কনটেইনার ডিপো নির্মাণ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার কনসালটেন্সি সার্ভিসেস লিমিটেড (ডব্লিউএপিসিওএস) সমীক্ষা সুপারিশের আলোকে ঈশ্বরদীতে এই অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো নির্মাণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এটি হবে সড়ক ও রেল নির্ভর কন্টেইনার ডিপো। কারণ ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলওয়ে লাইনটি ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে রুটের অন্তর্ভুক্ত। পাঁচ বছরে প্রায় ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি স্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, প্রাথমিক ভাবে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনের পূর্বপার্শ্ব অর্থাৎ রেলগেট থেকে বাজার পর্যন্ত রেলের যেসব ভূমি লিজ/অবৈধ দখলে রয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করে কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মান করা হবে। পাশ দিয়ে সড়ক (ষ্টেশন রোড) থাকায় জায়গাটির বেশ সুবিধা রয়েছে বলেও সুত্রে জানা গেছে। ঈশ্বরদী রেলগেট থেকে বাজার পর্যন্ত জায়গাটি ঢাকার কমলাপুর ষ্টেশন সংলগ্ন কন্টেইনার ডিপোর মতো রেল ও সড়ক পথের সুবিধা সংযুক্ত হিসেবে চিহিৃত করেছেন অনেকে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈশ্বরদী রেলগেট থেকে বাজার পর্যন্ত রেলওয়ের বিশাল জায়গা লিজ বা অবৈধ দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন বসত বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যে যেখানে পেরেছেন দখল করে স্থাপনা নির্মান করেছেন। বিশেষ করে রেলের জমিতে ছাদ দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও অসংখ্য প্রভাবশালী ব্যক্তি রেলের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পাকা স্থাপনার উপর ছাদ দিয়ে ভবন উর্ধ্বমুখি করেছেন। এছাড়াও নিয়মানুযায়ী খাজনা না দিয়েও প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর অবৈধ দখলে থাকা এসব জমি ভোগ-দখল করছেন। এসব কারণে রেল প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে। তাই রেলগেট থেকে বাজার পর্যন্ত বিশাল এই জায়গায় নির্মান করা হচ্ছে অভ্যন্তরীন কনটেইনার ডিপো। এজন্য অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে এমন কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের একাধিক সুত্র।

অন্যদিকে রূপপুর প্রকল্প ও ইপিজেডসহ নানামূখী উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে সম্প্রসারিত হচ্ছে ঈশ্বরদী শহর। আগের চেয়ে ঈশ্বরদী বাজার এখন অনেক চাঙ্গা। হাজার হাজার বিদেশীদের পদ চারনায় ঈশ্বরদী বাজার এখন মূখর। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারের প্রধান সড়কটি বেশ সরু। তাই ঈশ্বরদীর উন্নয়নের কথা চিন্তা করে ঈশ্বরদী বাজারের মেইন রোডটি প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবী। এজন্য সড়কের পশ্চিম পার্শ্বের দিয়ে বাড়িয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে বলেও জানান ঈশ্বরদী পৌরসভার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, রাস্তাটি প্রশস্ত করার কাজ বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনায় রয়েছে। আশা করছি অল্প দিনেই কাজ শুরু হবে। এজন্য পশ্চিম পাশই উপযুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে শহরের রেলগেট থেকে বাজার পর্যন্ত রেলওয়ের বিশাল জায়গা দখলকারীদের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় তারা আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী বিকল্প পথ অবলম্বনের জন্য রাস্তার বিপরীত পার্শ্বে জায়গা খোঁজা-খুঁজি করছেন বলেও জানা গেছে। দখলকারী ব্যবসায়ীরা জানান, রেলের জায়গা রেল নিবে এতে আমাদের বাঁধা দেওয়ার কিছু নেই। তবে এজন্য যে আমাদের একটু সময় দেয়।

রেলওয়ে বলছে, ঈশ্বরদীতে এই ধরনের একটি আইসিডি নির্মাণ করা হলে তা দেশের অভ্যন্তরসহ ভারত এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে রেল ফ্রেইট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। বন্দর থেকে আমদানিকৃত মালামাল খালাস পরবর্তী বা রফতানির জন্য নির্ধারিত পণ্য সড়ক পথে আনানেয়া করা হয়, যা সড়কে অনেক চাপ সৃষ্টি করে। স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে বেনাপোল সর্ববৃহৎ। মালামাল পরিবহনে এখানেও সড়ক যোগাযোগের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। অথচ রেলের মাধ্যমে পরিবহন করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে নিরাপদে এবং যানজট এড়িয়ে বড় শহরগুলোতে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব। রেল ফ্রেইট ট্রেড বিষয়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ২০১৩ সালের জানুয়ারীতে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তঃসরকার রেলওয়ের সভায় (আইজিআরএম) বাংলাদেশ ও ভারত সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট টিম গঠিত হয়। ঈশ্বরদীতে সড়ক ও রেল নির্ভর একটি আইসিডি নির্মাণ সম্ভব এবং যৌক্তিক বলেও সংস্থাটি জানায়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪২ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। যার মধ্যে ভারতীয় ঋণ ধরা হয়েছে ২০৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হবে এবং আগামী ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666