ঢাকা রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে যৌন নির্যাতনকারী প্রধান শিক্ষক অপসারণের দাবিতে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯
ঈশ্বরদীতে যৌন নির্যাতনকারী প্রধান শিক্ষক অপসারণের দাবিতে প্রতিষ্ঠানের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

ঈশ্বরদী আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার দাবিতে ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া সড়কে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে ক্লাস, পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন ঘোষণা দেন। তবে দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকীর আশ্বাসে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে দুপুরে স্কুল মাঠে ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তার কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে খেলা করছিল। ওই সময় প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক তাকে রুমে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। পরে তার বান্ধবীরা এগিয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক তাকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পরে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় যৌন হয়রানির মামলা করে। মামলার পর গত ১৭ জুন বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার শাহাবাগ এলাকা থেকে ওই শিক্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করে।

অন্যদিকে ১৬ জুন স্কুলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কামরুন নাহার শরীফ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে মোজাম্মেল হককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এরপর মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে বিতর্কিত ওই প্রধান শিক্ষক জামিনে মুক্তি পেয়ে বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এতে করে স্কুল প্রাঙ্গণে উত্তেজনা দেখা দেয়। আজ আবারও তারা আন্দোলনে নামে।

সাময়িক বহিস্কারের পর স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, এর আগেও এ বিদ্যালয়ে ছাত্রী যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক  ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ ধরণের ঘটনা বারবার ঘটছে। ওই শিক্ষককে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচী অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক ওই মামলায় জামিনে এসে গত ২০ আগস্ট পরিচালনা কমিটির নির্দেশ ছাড়াই গোপনে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। সকালে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি জানতে পেরে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করে বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায় তারা কলা গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। তাদের সঙ্গে অভিভাবকরা যোগ দেন।

তিনি আরও জানান, অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবগত করা হয়। পরে সবাই মিলে পরিস্থিতি শান্ত করে ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরত আনা হয়।

উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার আরিফুল ইসলাম জানান, ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় অবরোধ করে প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে অবস্থানের খবর পেয়ে থানা পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থলে যাওয়া হয়। প্রধান শিক্ষকের অস্থায়ী বহিষ্কার প্রত্যাহার করা না হওয়া পর্যন্ত আর বিদ্যালয়ে আসতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের শ্রেণিকক্ষে ফেরত পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666