ঢাকা শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০০ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীর পুরস্কারপ্রাপ্ত হাসপাতালে নেই সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা

মাহাবুবুল হক দুদু
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ঈশ্বরদীর এক শিশু ও এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে সাপের কামড়ে। ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে ভ্যাকসিনের (অ্যান্টি স্নেক ভেনম) অভাবে তাঁরা চিকিৎসাসেবা পাননি। স্বাস্থ্যসেবায় এক ডজন পুরস্কার পাওয়া ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর ভ্যাকসিন নেই। সরকারিভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসকেরা সেবা না দিয়েই অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির ঈশ্বরদী অঞ্চলের পরিবেশক ড্যাফোডিলসের সহকারী বিক্রয় প্রতিনিধি মো. রাজা আলী (২০) গত মঙ্গলবার ডিউটি শেষ করে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি সাপ তাঁকে কামড় দেয়। স্বজনেরা তাঁকে রাত নয়টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু ‘অ্যান্টি স্নেক ভেনম’ ভ্যাকসিন না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ভর্তি না করে দ্রুত পাবনা কিংবা রাজশাহী যেতে বলেন। রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।

ড্যাফোডিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল মান্নান বলেন, সাপে কাটার পরপরই ক্ষতস্থানের ওপর কাপড় দিয়ে বেঁধে রাজা আলীকে ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ভ্যাকসিন না থাকায় তাঁকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় ফটকের পাশে বসতবাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শাহাজালাল (৫) নামের এক শিশুকে সাপে কামড় দেয়। বাবা-মা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই শিশুটি মারা যায়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পরপর ১২টি জাতীয় পুরস্কার ও পদক পায়। দূরদূরান্ত থেকে এই হাসপাতালে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু এখানে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থার নেই। হাসপাতালটিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ। স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকেও এই ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাবনা কিংবা রাজশাহী যেতে হয়। ঈশ্বরদী থেকে সড়কপথে রাজশাহীর দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার, আর পাবনা শহরের দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার। পথে যেতে অনেক সময় যানজটের কবলে পড়তে হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসমা খানম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার জন্য ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। প্রয়োজনের সময় পাবনা থেকে আনতে হয়। এক ফাইল ভ্যাকসিনের দাম এক হাজার টাকা। একজন রোগীকে ১০ ফাইল ভ্যাকসিন দিতে ১০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। এই অবস্থায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য পাবনা থেকে ভ্যাকসিন আনতে অনেক সময় লাগে। ততক্ষণ পর্যন্ত রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তাই সাপে কাটা রোগীকে না রেখে দ্রুত তাকে পাবনা কিংবা রাজশাহী যেতে বলা হয়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: